21/04/2019 , ঢাকা

‘আপনারা মামলা করুন, আমরা যা করার করবো’


প্রকাশিত: 21/04/2019 06:17:25| আপডেট:

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন অশালীন মন্তব্য করার প্রতিবাদে দেশের নারী সাংবাদিকরা কী ভূমিকা পালন করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে একটা মামলা না-ই হতে পারে, আরো হতো মামলা হতে পারে। আপনারা মামলা করুন, আমরা যা করার করবো।’

সৌদি আরব সফর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরের বিস্তারিত কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেবেন।

হাইকোর্ট থেকে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের আগাম জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন একটা মামলা হয়, তখন ওয়েন্ট ইস্যু হয়। ওয়ারেন্ট ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গে এখানে কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর ছিল। বিষয়টি যখন বিচার বিভাগের, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো গিয়ে হামলা করতে পারে না। এছাড়া তিনি সেখানে আগাম জামিন চেয়েছেন। কোর্ট তাকে আগাম জামিন দিয়েছেন। তাও পাঁচ মাসের।

মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে ব্যারিস্টা মঈনুল হোসেনের মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে সাংবাদিককে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এমন একটা জঘন্য কথা বললেন একজন নারী সাংবাদিককে এবং প্রকাশ্যে, সারা বাংলাদেশ কেন, সারা বিশ্ব দেখেছে, কীভাবে তিনি একজন নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একথা বললেন। এখন কোর্ট যেখানে তাকে জামিন দিয়েছেন, সেখানে আমার কিছু বলার নেই। সেক্ষেত্রে আমি বলবো যে, আমাদের নারী সাংবাদিক যারা আছেন, তারাই বা কী করছেন? একজন (ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন) নারীর বিরুদ্ধে বলেছেন, একটা মামলা না-ই হতে পারে, আরও তো মামলা হতে পারে। এর প্রতিবাদও আপনার করতে পারেন।আপনারা প্রতিবাদ করুন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করার করবে।

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন যুক্তরাজ্যে ব্যার-অ্যাট-ল পড়তে গিয়ে ইংরেজদের খাবার খাওয়া শিখলেও ইংরেজদের ভদ্রতা শিখতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সেই আমলে ব্যারিস্টারি পড়তে যাওয়া কম কথা না। কিন্তু তিনি গিয়ে শিখলেন ইংরেজদের খাবার খাওয়ার কায়দা। ইংরেজ খাবার ছাড়া তিনি খেতে পারতেন না। তার অবস্থাটা কাকের ময়ূরপুচ্ছ পরে ময়ূর হওয়ার মতো। তিনি ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেননি, অ্যাটিকেট শিখেননি, কথা বলা শিখেননি। এটাই হলো বাস্তবতা, এই হলো সেই লোক।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর খুনি মোশতাক যে দল করেছিল, সেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ব্যারিস্টার মঈনুলের। উনি কিন্তু পরে একটা দলও করেছিলেন। জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি যারা, তাদের নিয়ে তিনি দল করেছিলেন। ইত্তেফাকেও তো মার্ডার করে ভাইকে (বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের যে জমি, সেটা নিয়েও ঝামেলা রয়েছে। তাদের জমি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে মামলা আছে। আপনারা সাংবাদিকরা খুঁজে বের করে দেখেন। তার আসলে গুণের শেষ নেই।

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সুসম্পর্কের সুবাদে মঈনুল হোসেনের জীবনের অনেক তথ্যই জানেন বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উনি সেই আমলে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পড়তে। এইটা তো কম কথা না। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, উনাকে আমরা মানিক কাকা বলে ডাকতাম। তো কাকা তাকে ব্যারিস্টারি পড়তে পাঠালেন। তিনি ব্যারিস্টারি পাস করে সাহেব হয়ে ফিরলেন। তিনি আর বাংলাদেশি খাবার খেতে পারেন না, তার সাহেবি খাবার দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, মানিক কাকা মায়ের কাছে এসে আফসোস করেন। বলেন, ছেলে তো ইংরেজ খাবার ছাড়া কিছু খায় না। তো তার জন্য তখন আলাদা বাবুর্চি রাখতে হলো। সেই যুগে মানিক কাকা ছেলের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাবুর্চি রাখলেন। ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে মঈনুল হোসেন ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেননি, অ্যাটিকেট শিখেননি, কথা বলা শিখেননি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এসব কথা সবার জানার কথা না। আরো জানি, এখন বলব না, পরে বলব।

প্রসঙ্গত, ১৬-২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফর করেন। সফরকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সফরকালে তিনি সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পাশাপাশি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

সাংবাদিককে গণধোলাই দিয়ে আটকের হুমকি পুলিশের

কনস্টেবল মমিন সাংবাদিকের ভিজিটিং কার্ড চান। পরে তাকে ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়। তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নাম মমিন।

শেখ হাসিনা ২৪ ঘণ্টা অজুসহ পবিত্র থাকেন: তাপস

ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ ঘণ্টা অজুসহ পবিত্র

রিমান্ড শেষে কারাগারে ইটিভির সাংবাদিক সেকান্দার

নারী সহকর্মীর প্রতি যৌন নিপীড়নমূলক আচরণের মামলায় একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) প্রধান প্রতিবেদক এম এম সেকান্দার মিয়াকে

মন্তব্য লিখুন...

Top