20/07/2019 , ঢাকা

‘আমি পঙ্গু মানুষ আমাকে কেউ একটু বাঁচান’


প্রকাশিত: 20/07/2019 05:00:02| আপডেট:

‘আমি পঙ্গু মানুষ, আমাকে কেউ একটু বাঁচান। আমি তো বের হতে পারছি না।’ চিৎকার আর আহাজারি করছিলেন দুর্ঘটনায় চলনশক্তি হারানো মঞ্জুর হাসান। কিন্তু না, তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি সহকর্মীদের কেউ। আগুনের খবর পেয়ে এফ আর টাওয়ারের ভবনের ২১ তলার সবাই যার যার নিজের প্রাণ বাঁচাতে বেরিয়ে যান। অসহায় মঞ্জুরের যেন কিছুই করার ছিল না। অফিসে চেয়ারে বসে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। ধীরে ধীরে পুরো অফিস ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে উঠলে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

স্বজনরা বলছেন, সহকর্মীদের কেউ একজন সহযোগিতা করলে তাকে বাঁচানো যেত। ২১ তলায় আগুন পৌঁছায়নি। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি। পঙ্গু হওয়ার কারণে জানালার কাঁচগুলোও ভাঙতে পারেননি। কেন্দ্রীয়ভাবে এসি লাগানো থাকায় অফিসের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে পারেনি। ফলে ধোঁয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঞ্জুর হাসানের ছোট ভাই শিমুল হাসান জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর তার ভাই পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন। এসময় তিনি বলেন ‘আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। সবাই অফিস থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। কেউ আমাকে বের করে নিয়ে যায়নি। আমি কোনও উপায় না পেয়ে অফিসের চেয়ারে বসে আছি। আমি হয়তো মরে যাবো। সবাইকে আমার জন্য দোয়া করতে বলিস। তোরা ভালো থাকিস। আমার দুই সন্তানকে দেখে রাখিস।’

শিমুল হাসান বলেন, ‘অফিসে যখন আগুন লাগে সবাই বাঁচার জন্য ছোটাছুটি করছিল। কিন্তু, ভাই পঙ্গু হওয়ায় তার কিছু করার উপায় ছিল না। অফিসে বসেই মোবাইল ফোনে আমাদের সাথে কথা বলছিল। আমাদের সবার কাছে দোয়া নিয়েছে। আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই এক সময় ফোনে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। বারবার রিং হলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যাচিছল না। তারা ধারণা করে নিয়েছিলেন, তার ভাই হয়তো আর বেঁচে নেই। যেহেতু পঙ্গু অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়ে ছিলেন তিনি। তার তো মৃত্যু ছাড়া আর কোনও গতি হওয়ার কথা না।’

বনানীর এফ আর টাওয়ারের ২১ তলার কাশেম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন মঞ্জুর হাসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মঞ্জুর কাশেম গ্রুপে চাকরিরত অবস্থায় ২০০০ সালে মতিঝিলে দুর্ঘটনায় পড়েন। তখন থেকেই চলনশক্তি হারানো মঞ্জুরকে কাশেম গ্রুপের কর্ণধার প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। হুইল চেয়ারের মাধ্যমে অন্যের সহযোগিতায় অফিসে যাতায়াত করতেন তিনি।

স্বজনারা জানান, মঞ্জুর হাসানের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত মুনছুর রহমান। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। আশির দশকের শেষের দিকে ছাত্রাবস্থা থেকেই মঞ্জুর ঢাকায় থাকতেন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরিও করতেন ঢাকায়। পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার ইব্রাহিমপুরে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে নিহতের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের লোকজন সবাই মঞ্জুর হাসানকে নিয়ে কথা বলছেন। তাদের সবার আক্ষেপ কেউ যদি তাকে একটু সহযোগিতা করতো, তাহলে তার মরতে হতো না। আগুন পৌঁছেছিল ১১তলা পর্যন্ত। ধোঁয়ার কারণেই মরতে হয়েছে তাকে। পঙ্গু না হলে নিজেই বের হয়ে আসতে পারতেন তিনি।

চাচাতো ভাই সাবেক সেনা সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ‘যখন ঢাকায় থাকতাম, নিয়মিত তার সঙ্গে দেখা করতাম। তার অফিসে যেতাম। যখন আগুন লাগার খবর পেলাম, তখন ধারণা করেছি; হয়ত সে আর বের হতে পারবে না। বিকালে খবর পাই সে মারা গেছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়া, আগুনে ৭৩ জন আহত ও অসুস্থ হয়ে রাজধানীর আটটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন বিশ্বের জন্য অনুসরণীয়’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বিশ্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অনন্য। প্রতিবেশী এ দুটি দে

দীর্ঘদিনের গোপন ট্যাটু প্রকাশ্যে আনলেন সামান্থা

নতুন সিনেমা ‘ওহ বেবি’ ভালো ব্যবসা করছে। সেই সাফল্যে হাওয়ায় ভাসছেন ভারতের দক্ষিণী সুন্দরী সামান্থা আক্কিনেনি। এবার নিজের দীর্ঘদিনের

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেতাবি কথা: রুমিন ফারহানা

সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা কেতাবি কথা ছাড়া আর কিছুই নয়, বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মন্তব্য লিখুন...

Top