27/05/2019 , ঢাকা

উন্মুক্ত হচ্ছে শ্রমবাজার, মালয়েশিয়ায় বন্দী দুই হাজার বাংলাদেশি


প্রকাশিত: 27/05/2019 19:12:24| আপডেট:

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরতদের মধ্যে নানা অভিযোগে বর্তমানে সব ডিটেনশন ক্যাম্পে ২ হাজারের মতো বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন। এটিই হচ্ছে দেশটির দেয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য। কিন্তু বিষয়টি না জেনে আমাদের গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ডিটেনশন ক্যাম্পে হাজার হাজার বাংলাদেশি বন্দী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। যা মোটেও সত্য নয়।মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সফররত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমদ মুনিরুছ সালেহিন এ কথা জানান।

মালয়েশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল ৬ দিনের সফরে বর্তমানে কুয়ালালামপুরে রয়েছেন।

মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সময় ২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদমন্ত্রী কুলাসেগারানের সাথে পৃথকভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মুহ. শহীদুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, উপসচিব আবুল হোসেন, দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মো: জহিরুল ইসলাম, প্রথম সচিব শ্রম মো: হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল, প্রথম সচিব তাহমিনা ইয়াছমিনসহ সেদেশের মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার প্রতিনিধি দলটি সাবাহ সারাওয়াকের উদ্দেশে কুয়ালালমপুর ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সাবাহ সারাওয়াকের গভর্নরসহ পৃথক দুটি বৈঠক শেষে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মানবসম্পদমন্ত্রীর সাথে পৃথক বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত সচিব মনিরুছ সালেহিন বলেন, আলোচনায় তারা একাধিকবার বলেছেন, বাংলাদেশী কর্মীই তাদের পছন্দের প্রথম তালিকায় রয়েছে। কারণ তারা কর্মঠ। এর জন্যই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ওয়ার্ক প্লান তৈরি করবেন। আর ওয়ার্ক প্লান তৈরির জন্য চলতি মাসের শেষের দিকে আরো একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আশা করছি ওই মিটিংয়ের পরই দ্রুত স্থগিত শ্রমবাজার খোলার একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করে কেবিনেটে পাঠাবেন।

মালয়েশিয়া সরকার খুবই পজিটিভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপরও শ্রমবাজারে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সেগুলো পরবর্তী বৈঠকে দুই দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে উত্থাপন করে সমাধানের পথ বের করবেন। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় থাকা আনডকুমেন্টেড শ্রমিকদের বিষয়টি উঠেছে। এটার সহজ সমাধান উভয়পক্ষ মিলে বের করা হবে।

বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরো বলেন, শ্রমবাজারে এবার যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেশন না থাকে সে ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্য স্পষ্ট করেই দুই মন্ত্রীকে বলেছেন, এবার কোনো সিন্ডিকেশন হবে না। অবশ্যই কম খরচে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়ার পুলিশ ও ইমিগ্রেশনের সাঁড়াশি অভিযানে ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে আনডকুমেন্টে বাংলাদেশি বন্দী হয়ে আছে- এ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ড. আহমদ মনিরুছ সালেহিন বলেন, আনডকুমেন্টে শ্রমিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা উঠেছে। তবে ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া হিসাব অনুযায়ী এই মুহূর্তে দুই হাজারেরও কম লোক আটক আছে।

কিন্তু গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক বন্দী থেকে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এটা মোটেও ঠিক না। এই কথাগুলোই মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মিডিয়াতে মালয়েশিয়া নিয়ে একটু বেশি বেশি লেখা হয়, যা অনেক সময় আমাদেরও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়।

এই বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৯ অথবা ৩০ মে ফের দু’দেশের মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শীঘ্রই শ্রম বাজার উন্মুক্তসহ প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, যারা অবৈধ আছে বৈধ করে নেয়া এবং যারা দেশে যেতে চায় তাদের নামমাত্র ফি দিয়ে দেশে যাওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

এদিকে অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে মালয়েশিয়া সরকার। দেশটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দীর্ঘদিন অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। যারা সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি তাদের পুনরায় কোনোো সুযোগ দেওয়া হবে কিনা সেটি অনিশ্চিত।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় আট মাসেরও বেশি সময় ধরে নতুন কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না। এতে অন্তত এক লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া চালু করতে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) একাধিকবার বৈঠক করলেও সংকটের সুরাহা হয়নি। অভিযোগ তদন্তে মালয়েশিয়া সরকারের গঠিত স্বাধীন কমিটি ইতিমধ্যে একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে উচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিলেন মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এখন মন্ত্রণালয় সময় বাড়ানোর আবেদন করবে বলে জানা গেছে। গত বছর মাঠে নামলেও থমকে আছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান। বরং পুনরায় এ বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে ওই সংঘবদ্ধ চক্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত বছর একতরফা ও অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশের ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। এই ১০ এজেন্সি সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পায়। এর সঙ্গে জড়িত দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি লোকজন। এই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারি খরচের অতিরিক্ত ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছ।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঝিনাইদহে আত্মীয় হিসেবে বাসায় এসে শিশু অপহরণ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস জানান, থানায় জিডি হয়েছে। হয়তো ভয়ে পরিবারের লোকজন মামলা করেনি। তবুও তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করেছি।

পরকীয়ার ছবি ফেসবুকে, ছেলেকে নিয়ে খালে ঝাঁপ গৃহবধূর

প্রেমিকের সঙ্গে গৃহবধূর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর মুহূর্তেই সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর সংসারে কলহ শুরু

উপজাতি বলে বারবার অপমান করায় আত্মঘাতী চিকিৎসক

তার মায়ের দাবি, সিনিয়র চিকিৎসকেরা প্রায়ই পায়েলকে জাতি বিদ্বেষ মূলক মন্তব্য করতেন। আর সেই কারণেই আত্মহত্যা করেছেন পায়েল। মৃত্যুর আগে কয়েক জনের নামও বলে গিয়েছিলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন...

Top