15/11/2018 , ঢাকা

একই আসন থেকে ফরম নিলেন সৈয়দ আশরাফ, তার ভাই ও রাষ্ট্রপতিপুত্র


প্রকাশিত:9:48 pm | November 9, 2018 | আপডেট:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেজো ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন। তিনজনই আসন্ন নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

ঢাকা বিভাগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ বুথের দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত জানান, সকালে ফরম বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণ পর কিশোরগঞ্জ-১ আসনের বর্তমান সাংসদ জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য ফরম সংগ্রহ করে নিয়ে যান তার ব্যক্তিগত সহকারী তোফাজ্জল হোসেন। পরে সৈয়দ আশরাফের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলামের পক্ষে একই আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন।

শুক্রবার বিকেলে তুহিনের আস্থাভাজন সহকর্মী শুভ-আল-মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেছেন, ‘তুহিন ভাইকে নিয়ে ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনতে ধানমন্ডি ৩/এ কার্যালয়ে উপস্থিত হই। পরে সাড়ে ৩টার দিকে মনোনয়ন ফরম ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে।’

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) আসনের দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কয়েকমাস ধরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে লাগাতার সভা-সমাবেশ করে আসছেন রাসেল আহমেদ তুহিন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে জনসভার মাধ্যমে বড় ধরনের শোডাউন করে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে আসেন।

সেদিনের শোডাউনে অনেকেই এ আসনে আগামী নির্বাচনে রাসেল আহমেদ তুহিনের প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিতই মনে করেন। কিন্তু তুহিন ওইদিন সমাবেশে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিলেও তার সমর্থকদের মধ্যে তার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় ছিল।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলে রাসেল আহমেদ তুহিন কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কেনার কথা জানান। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও নৌকার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমি জনগণের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সমর্থন পেয়েছি। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোই আমার রাজনীতির লক্ষ্য।

ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬৮ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ বর্তমানে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অসুস্থতার কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ কার্যক্রম থেকে ৯০ কার্যদিবসের জন্য ছুটিও নিয়েছেন তিনি। গত ৪ নভেম্বর কিশোরগঞ্জে এক আলোচনা সভায় তার ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াত ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ সৈয়দ আশরাফ পরিবারের সদস্যদেরসহ কাউকেই চিনতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে তার রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা এখন রাজনীতি ও নির্বাচনের চেয়ে তার চিকিৎসার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত হওয়ার পর জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ যুক্তরাজ্যে চলে যান। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন তিনি। ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে পুননির্বাচিত হন তিনি।

** নির্ভরযোগ্য খবর জানতে ও পেতে স্টার মেইলের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Star Mail/Facebook


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

যে কারণে নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছে না ইসি?

কেন নির্বাচন কমিশন এই যুক্তি মানছে না? কেন তারা মনে করছেন, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই তাদের নির্বাচন করতে হবে?

‘হুমায়ূন আহমেদের বউ নমিনেশন পেপার নিতে আসছে!’

‘আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়ে এ কি করলেন শাওন! (দেখুন ভিডিও সহ)’

‘বে‌শি খু‌লে বলা যা‌বে না’

ওবায়দুল কা‌দে‌রের সঙ্গে বৈঠক প্রস‌ঙ্গে বিকল্পধারার এই নেতা ব‌লেন, ‘বিগত বেশ ক‌য়েক‌ দিন ধ‌রে আমা‌দের দ‌লের মহাস‌চিব আব্দুল মান্নান এবং ওবায়দুল