22/08/2019 , ঢাকা

কামিনী


প্রকাশিত: 22/08/2019 18:22:48| আপডেট:

আমার একটা ছোটখাট সমস্যা আছে! আসলে সমস্যাটা ছোট না! বেশ বড়! আমি ফুল চিনিনা। মানে ফুল চিনি! কিন্তু নাম জানিনা। ছাল-বাকল দেখে গাছের নামও বলতে পারিনা। শুধু ঘ্রাণ পাই। মন ভরে লম্বা দম নিলেই মনে হয় পৃথিবী বদলে গেছে। স্কুলের সময়ের কথা মনে পড়ে। নিজের চাইতে বড় একটা ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতাম। সেই কুঁজো বুড়ির গল্পের মত। নামাজে রুকুতে যাওয়ার মত করে হাঁটতাম। চোখ থাকত সর্বদা মাটির দিকে।

ইটের খোয়া দিয়ে ঢালাই করা রাস্তাটা সাদা হয়ে থাকত। অজস্র ফুল পড়ে থাকত সেই পথটাতে। আমাদের বাসাটা খুব চমৎকার একটা জায়গায়। কেমন ছায়া ছায়া। ঠান্ডা ঠান্ডা। স্নিগ্ধ, কোমল। একেবারে টিভিতে সাবানের এডের মত। শান্ত, স্থবির প্রকৃতি! বাতাসে ভেসে বেড়াত আশ্চর্য্য ঘ্রাণ।

চোখের ঘুম কেটে যেত নিমেষে। পাঁচ-ছয় সাবজেক্টের দুইটা করে খাতা ( ক্লাসওয়ার্ক+ হোমওয়ার্ক)।আর নানির দেওয়া দুই পার্টওয়ালা সেই টিফিনবক্সে থাকত কখনো কখনো আলুভাজি- রুটি! আরেকটা পার্টে থাকত আস্ত সিদ্ধ ডিম। খুব বিরক্ত লাগত। খেতামনা একেবারেই।

প্রায় ফেরত নিয়ে আসতাম। ভাল লাগত দুইটাকার বুট, এক টাকার আমসত্ত্ব, ক্রিম রোল, বাটার বন, কাপ আইসক্রিম।নানি টাকা দিতনা। টাকা দিত নানু লুকিয়ে! আমার স্কুল শেষে আবারো ফিরে আসতে হত সেই পথ দিয়ে। পথ পরিষ্কার হয়ে যেত ততক্ষণে। ঝাড়ু দেয়া শেষ। পরিচ্ছন্ন কর্মী সরিয়ে নিয়ে গেছে আগের দিনের ময়লাগুলো! সাথে পড়ে থাকা ফুলগুলোও। বড্ড বেশি মিস করতাম। রাতে পড়তে বসলে জানালা দিয়ে মন মাতানো ঘ্রাণ আসতো।

আমার রুমের জানালাটায় দোষ ছিল। বাতাসে মাঝেই মাঝেই কেঁপে উঠত খালামনির কাছে শুনেছিলাম। যখন এই বিল্ডিং বানায় তখন এখানে অনেকগুলো গাছ কেঁটে ফেলা হয়েছিল। সেই গাছগুলোর একটাতে বাস করত পরী! রূপকথার সেই সুন্দরী ডানাওয়ালা পরী। এই গাছটা কেঁটে ফেলায় বেচারীকে অনেক দূরে চলে যেতে হয়েছিল। এখনো নাকি মাঝে মাঝে সে তার পুরনো আবাস দেখতে আসে।

ছাদের উপর ধপধপ শব্দ। শব্দ হলেই ঘুম ভেঙ্গে যেত। গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকতাম বিছানায়। ভয়ে কুঁকড়ে যেত ছোট্ট শরীরটা।ভয়ে আক্রে ধরার চেস্টা করতাম দু ‘পাশের ঘুমান্ত শরিরকে। রাত বাড়ার সাথে সাথে তীব্র হত ঘ্রাণ। অসম্ভব কড়া, মাতাল করা সেই গন্ধ।ছোট মামা বলত এই গাছগুলোতে নাকি সাপ চলে আসে গন্ধে। ডালের ফাঁকে ফাঁকে পেঁচিয়ে বসে থাকে। কোন একসময় ঘুম চলে আসত।

এখনো অদ্ভুত কারণে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। মনের ভুলেই জানালা খুঁজি। নাক টানি বে-খেয়ালে! খুঁজে পাইনা। না জানালা। না সেই গন্ধ। মাঝে মাঝে মাঝরাতে কেঁপে ওঠা সেই জানালাকে মিস করি। সেই ঘ্রাণটা মিস করি।

দু ‘পাশের স্নেহের চাদরে জরানো ঘুমান্ত শরিরকে হাতড়ে ফিরি। সাদা পপকর্ণের মত ছড়িয়ে- ছিটিতে থাকা ফুলগুলোকে মিস করি।পরে জেনেছি ওগুলো বকুল আর কামিনী ফুল।স্কুল যাবার সেই পথটাকে মিস করি। এসব কিছুর মাঝে মিশে থাকা সেই আমার আমিকেও বড্ড মিস করি

লেখক : ইমরুল হাসান


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...
ছাত্রলীগ

একুশে গ্রন্থমেলায় আগ্রহের কেন্দ্রে “ছাত্রলীগের অকাট্য দলিল”

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান সম্পাদিত প্রথম প্রকাশনা “নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, ইতিহাসের অকাট্য দলিল” গ্রন্থটি এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বৃহষ্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাওয়া যাচ্ছে। বইটি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী, প্রচ্ছদ করেছেন ছাত্রলীগকর্মী শিল্পী রায়হান রনি। অমর একুশে বইমেলার আগামী প্রকাশনী স্টল নং-১৭ (ফেভিলিয়ন-২১), কলেজ ক্যাম্পাস প্রকাশনী স্টল নং-১০০, এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের […]

ড. আসাদুজ্জামান চৌধুরী

অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান চৌধুরী এর বইসমূহ সাড়া ফেলেছে বই মেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষ তার স্বপ্নের সমান কিংবা তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। স্বপ্ন কখনো হয় কল্পনা, আবার কখনো হয় ভাবনা। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে যখন চিন্তাশীলতা মানুষকে লিখতে শেখায় তখন জীবনবোধের মধ্য দিয়ে লেখক সত্তার প্রকাশ ঘটে। ভাবনাগুলো যদি হয় বহুমাত্রিক তবে তা নানাভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে। ভাবনা থেকে ভাবনা সৃষ্টি হয়ে তা বাস্তবতার পদচিহ্ন এঁকে দেয়। […]

নির্ঘুম রাতের গল্প

নির্ঘুম রাতের গল্প বিকেলের রোদে হৃদয়ের উঠানে ভাবনা গুলো খেলা করে নানা রঙে ছন্দের নুপুর পরে হেলে দুলে। কষ্টের ছায়া ভোরের আগেই সিঁধেল চোরের মত পালিয়ে গ্যাছে মাটি খোঁড়া গৃহবাসীর বুকে যন্ত্রণা রেখে। তবুও চারিপাশ মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে গত রাতে ফেলে আসা একফালি নির্ঘুম রাতের বুকে। অনাকাঙ্ক্ষিত সূর্যের আলো যেমন করে চোখে বিঁধে […]

মন্তব্য লিখুন...

Top