15/11/2018 , ঢাকা

খালেদা জিয়ার আরো ৭ বছরের জেল


প্রকাশিত:1:03 pm | October 29, 2018 | আপডেট:

ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ট্রাস্টের নামে ঢাকা শহরে থাকা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রায়ত্ত করার আদেশ দেন আদালত।

ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বসানো পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস থেকে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান সোমবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন।

কারা কর্তৃপক্ষ বার বার খালেদাকে আদালত কক্ষে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই এ মামলার শেষ দিকের কার্যক্রম চালিয়ে নেয় আদালত। রায়ের সময়ও খালেদা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

সাত বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এ মামলার চার আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

আর হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায় দেওয়ার সময় বিচারক বলেন, ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থেকে আসামি খালেদা জিয়া অপরাধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে আর না হয় সেজন্য তার কঠোর শাস্তি হওয়া আবশ্যক।’ এরপরই রায় ঘোষণা করেন তিনি।

এদিন সকাল ১১ টার দিকে বিচারক আদালতে প্রবেশ করেন। বিচারক প্রবেশ করার ৩০ মিনিট আগে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীরা আদালত প্রবেশ করেন। সাড়ে এগারটায় রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। রায়ের দিন সকাল থেকেই আদালত ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি। চিকিৎসার জন্য গত ৬ অক্টোবর থেকে তাকে কারা তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) রাখা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর আদালত রায় ঘোষণার এই তারিখ নির্ধারণ করেন। সোমবার রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসাধীন থাকার কারণে খালেদা জিয়াও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। মামলায় বিভিন্ন সময়ে মোট ৩২ জন সাক্ষ্য দেন।

পুরানো কারাগারে আদালত বসানোর আগে মামলাটির কার্যক্রম রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে চলে আসছিল। এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি অন্য আরেকটি মামলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদালতের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় সাবেক এই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে। গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম সেখানে আদালত বসে। ওইদিন খালেদা জিয়া আদালতে গিয়ে বিচারককে বলেন, তিনি অসুস্থ। বার বার তিনি এ আদালতে আসতে পারবেন না। যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দিন। ১২ সেপ্টেম্বর ধার্য তারিখে আবার সেখানে আদালত বসেন। কিন্তু সেখানে আসতে অস্বীকৃতি জানান খালেদা জিয়া। এর পরের শুনানির সময় খালেদা জিয়া আসতে পারবেন কিনা বিচারক তা জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি জানাতে পারবেন বলেন। বিচারক তাদের খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে কারা কর্তৃপক্ষকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেন। ১৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার দুই আইনজীবী কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২০ সেপ্টেম্বর তাদের বক্তব্য শোনার পর বিচারক সিদ্ধান্ত দেন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই মামলাটির বিচার কাজ চলবে।

আরো পড়ুন: দুর্নীতির আরেক মামলায় রায়ের সামনে খালেদা জিয়া

** নির্ভরযোগ্য খবর জানতে ও পেতে স্টার মেইলের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Star Mail/Facebook


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

‘আমি তো রোগী ছুটিই দেই নাই, গেল কখন?’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই জোর করে অসুস্থ অবস্থায় তাকে কারাগারে

শেখ হাসিনাকেও আদালতে আনার দাবি খালেদা জিয়ার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ফের কারাগারে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে পুলিশের একটি কালো এসইউভি গাড়িতে

এক মিনিটে খালেদা জিয়াকে কী বললেন মির্জা ফখরুল?

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের