22/08/2019 , ঢাকা

ঘুষ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পেলেন ২ এতিম মেয়ে


প্রকাশিত: 22/08/2019 17:34:23| আপডেট:

সবাইকে অবাক করে দিয়ে কোনো প্রকার ঘুষ প্রদান ছাড়াই পুলিশের কনস্টেবলের চাকরি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুরের দুই এতিম মেয়ে। মাত্র ১০৩ টাকা ব্যয়ে চাকরি পাওয়া ওই দুই মেয়ে হলেন- মেহেরপুর সদর উপজেলার গভিপুর গ্রামের মৃত বাহার আলীর মেয়ে লতা খাতুন ও মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের নূরনবী শেখের মেয়ে প্রিয়া খাতুন। বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর পুলিশ লাইন রিজার্ভ অফিসে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান নিয়োগের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী মেহেরপুরে ৯ জন পুরুষ ও ৯ জন নারীর চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। যার মধ্যে দুজন মুজিবনগর সরকারি শিশু পরিবারের দুই এতিম মেয়ে রয়েছেন।

জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য ১০৩ টাকা আবেদন ফি জমা দিতে হয়। কোনো প্রকার ঘুষ বাণিজ্য ছাড়া মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেহেরপুর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। এতে উদ্বুদ্ধ হয়েই দুই এতিম মেয়ে গত ২৪ জুন মেহেরপুর পুলিশ লাইনে বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত কয়েকদিনে বিভন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের চাকরি নিশ্চিত হয়।

চাকরি পাওয়াদের শুক্রবার পুলিশ লাইনে চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সেখানে দুই ছাত্রী লতা ও প্রিয়াকে নিয়ে এসেছিলেন সরকারি শিশু পরিবারের প্রধান শিক্ষক তন্ময় কুমার সাহা।

আনন্দ আবেগে চোখের পানি মুছে তন্ময় কুমার সাহা বলেন, আমার এখানে ৯০ জন এতিম কন্যা শিশু রয়েছে। এবছর লতা ও প্রিয়া এসএসসি পাস করে। তাদের নিয়ে আমার চিন্তার সীমা ছিল না।

‘সরকারি নিয়মানুযায়ী এসএসসির পরে তাদের বিদায় দিতে হবে। তাই এই চাকরির মধ্য দিয়ে আমার মেয়ে দুটির ভবিষ্যত নিশ্চিত হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

এদিকে চাকরি পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লতা খাতুন বলেন, ‘আমার ছোট থেকে স্বপ্ন ছিল পুলিশ হবো। দেশ ও জনগণের সেবা করবো। আমার এ স্বপ্ন আমাকে ঘুমাতে দিত না। তবে অবশেষে প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় আমার মনের আশা পূর্ণ হলো।’

প্রিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার প্রধান শিক্ষকসহ সকলের সহযোগিতায় আজ আমি পুলিশের চাকরি পেয়েছি। আমি ভাবতাম আমরা এতিম। আমাদের পাশে কেউ নাই। তবে আজ আমাদের চাকরির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দিলেন তিনি এতিমদের মা। সব সময় এতিমদের পাশে আছেন। আর আমিও প্রতিজ্ঞা করছি দেশ ও জনগণের সেবা করবো।’

প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে তারা দুজন বলেন, তন্ময় কুমার সাহা আমাদেরকে পিতামাতার স্নেহ দিয়ে মানুষ করেছেন। পুলিশে লাইনে আসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড়সহ সব সময় তিনি আমাদের চোখে চোখে রেখেছিলেন। এটি কিন্তু উনার সরকারি দায়িত্ব নয়। পিতার মতই দায়িত্ব পালন করে তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন।

চাকরির বিষয়ে তারা দুজন বলেন, ঘুষ ছাড়া পুলিশে চাকরি হবে তা আমাদের বিশ্বাসই ছিল না। আমাদের মেধা ও যোগ্যতায় চাকরি হয়েছে। এটি ভাবতেই গর্ববোধ হচ্ছে। তাই চাকরিতে দায়িত্ব পালন করার সময় মানুষের ভালোর জন্যই সব কিছু করতে চাই। তাছাড়া আমাদের পিতা (প্রধান শিক্ষক) ও শিশু পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্যও কিছু একটা করতে চাই।

শিশু পরিবারের তত্বাবধায়ক আবু তালেব বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই মেয়েদের উৎসাহিত করে আসছি। পুলিশ সুপারসহ পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের সততা ও মানবিক দিক বিবেচনায় তারা এ নিয়োগ পেয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি চালু হবার পর তারাই প্রথম সরকারি চাকরি পেল।’

মেহেরপুর পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় কিনা তা আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর যা চাওয়া আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি। এখন থেকে টাকা ছাড়াও যোগ্য ও মেধাবিরা পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে আসবে।’


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঝিনাইদহে হিজড়াদের বিচার চাইলেন হিজড়ারা

লিঙ্গ কর্তনকারী হিজড়াদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন অপকর্মে প্রতিবাদ,

ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করার পর কিছুটা সুস্থবোধ করলে সাকিবকে বাড়িতে আনা হয়।

স্পিরিটের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ, হয়ে যাচ্ছে বিদেশি ব্র্যান্ডের মদ!

অনুমোদিত বিভিন্ন বার ও ক্লাব থেকে বিদেশি মদের খালি বোতল সংগ্রহ করে ভেজাল মদ ঢুকিয়ে নতুন লেভেল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন...

Top