13/11/2018 , ঢাকা

ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী ছবিঘর সিনেমা হল বন্ধ হচ্ছে


প্রকাশিত:11:02 am | November 7, 2018 | আপডেট:

আবদুল্লাহ আল মাসুদ: সিনেমা হলের গায়ে লম্বা পোস্টারে নায়ক নায়িকাদের ছবি বড় মাপে লেখা সিনেমার নাম। টিকিট কাউন্টারে ভিড়। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে লাল রঙের টিকিট হাতে। যুবকটির বার বার ঘড়ি দেখা। এসব দৃশ্য আর দেখতে পাওয়া যাবে না, এক পলকে এসব যেন শুধু স্মৃতির পাতায় স্থান পাবে৷ ঝিনাইদহ শহরের গীতাঞ্জলি সড়কের নবগঙ্গা নদীর কোল ঘেসে ৬৪ শতক জমির উপর ১৯৫৫ সালের দিকে গড়ে উঠেছিল জেলার প্রথম ঐতিহ্যবাহী ছবিঘর সিনেমা হলটি।

জানা গেছে, এক সময় এ হলে উত্তম কুমার সুচিত্রা সেন ও পাকিস্থানের উর্দু ছবিও চলেছে। কিন্তু বর্তমানে মালিক পক্ষ হলটি হঠাৎ করেই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে ছবিপ্রিয় সাধারণ মানুষদের মধ্যে হতাশা দেখা যাচ্ছে। হলের সামনে দেওয়ালে নোটিস বোর্ড ঝুলছে আগামী ৬ ডিসেম্বর বন্ধ হচ্ছে সিনেমা হলটি।

শহরের কাঞ্চননগর এলাকার মিজানুর রহমান (শুনা) নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমি ১৯৬৮ সালে এই ছবিঘর সিনেমা হলে রুপবান ছবি দেখেছিলাম। বর্তমানে ছবিঘর সিনেমা হলটি বন্ধ হতে যাচ্ছে শুনে খারাপই লাগছে। কারণ হলো সিনেমা দেখে মানুষেরা আনন্দ উপবোগ করে। কিন্তু সেই উপভোগ থেকে ঝিনাইদহবাসী বঞ্চিত হতে যাচ্ছে।

হলের বর্তমান মালিক এ্যাডভোকেট মাজহারুল আনোয়ার সবুজ বলেন, এটি তার পারিবারিক সম্পত্তি। পূর্বপুরুষরা ৫০ দশকের দিকে ৬৪ শতক জমিসহ ভবনটি কেনেন। তখনকার সময় এ ভবনটি পাটের গোডাউন হিসাবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে ভবনটি সংস্কার করে সিনেমা হলে পরিণত করা হয়।

হলটির মালিকদের সম্পর্কে তিনি বলেন, মূলত আমার দাদারা এ হলটির মালিক ছিলেন। তারা হলেন, মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, মরহুম আনসার উদ্দিন, মরহুম শহীদ নজির উদ্দীন ও মোঃ কাজী রায়হান উদ্দিন। আমার দাদারা মিলে এই সম্পত্তিটি কেনেন এবং তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ছবিঘর সিনেমা হলটি জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমান হলের ভবনটি সে সময় পাটের গোডাউন ছিলো। পরে সংস্কার করে ছবিঘর সিনেমা হল তৈরি করা হয়। তখন মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমেদ এ সিনেমা হলটি পরিচালনা করতেন। মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর ছেলে, পৌর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মশা হলটি পরিচালনা করার দায়িত্ব নেন। চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর তার ছেলে মাজহারুল আনোয়ার সবুজ ২০০১ সালে পরিবারের অন্যান্য মালিকদের কাছ থেকে লিজের মাধ্যমে হলটি চালাচ্ছেন বর্তমানে।

সিনেমা হলটি বন্ধ হচ্ছে কেনো জানতে চাইলে এ্যাডভোকেট মাজহারুল আনোয়ার সবুজ বলেন, সিনেমা হলটির জমির অংশীদার এখন বেড়ে গেছে। পরিবারের অনেক সদস্যরা চাচ্ছেন না হলটি থাকুক তাছাড়া অনেকেই তাদের অংশের জমি বিক্রি করতে চাচ্ছেন। সে জন্য বর্তমানে হলটি টিকিয়ে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে বাধ্য হয়েই বন্ধ করতে হচ্ছে বাপ দাদার গড়া প্রতিষ্ঠানটি।

জেলা কালচারাল কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, চলচ্চিত্র সমাজ পরির্তনের সবসময় ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। চলচ্চিত্র প্রকাশের মূল মাধ্যম সিনেমা হল। সেই সিনেমা হল যদি একের পর এক বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের উপরে ক্ষতিকারক প্রভাব আনবে। সেজন্য পুরাতন সিনেমা হলগুলোকে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা তত্বাবধানের আওতায় নিয়ে এসে সিনেমা হলগুলোকে বাচাতে হবে। ছবিঘর সিনেমা হলটি অত্যাধুনিক সিনে কমপ্লেক্স এ রুপান্তরের দাবি জানান তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, ঝিনাইদহের ইতিহাসের সাথে ছবিঘর সিনেমা হলটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ ঐতিহ্যবাহী হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি দুঃখজনক।

তিনি জানান, হলটি টিকিয়ে রাখার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হবে। মন্ত্রণালয় যেভাবে নির্দেশনা দেয় আমরা সে প্রক্রিয়ায় আগাবো।

** নির্ভরযোগ্য খবর জানতে ও পেতে স্টার মেইলের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Star Mail/Facebook

 


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঝিনাইদহের গীতা দাসের চিকিৎসা বন্ধ টাকার অভাবে

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু…’, ভূপেন হাজারিকা জীবনমুখী গানের অংশ এটি। মানুষের বিপদের সময় পাশে থেকে