22/08/2019 , ঢাকা

ঝিনাইদহে স্ত্রী-সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৮ বছর পর ‍মুক্তি


প্রকাশিত: 22/08/2019 18:20:38| আপডেট:

স্টার মেইল, যশোর: অবশেষে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে খোলা আকাশের দেখা পেলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. ইসলাম। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে মো. ইসলাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে এলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আগে থেকেই অপেক্ষা করা ইসলামের বাবা, বোন ও ভাইরা তাকে জড়িয়ে ধরলে তিনি কেঁদে ফেলেন। স্বজনদের আনন্দঅশ্রুতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

তবে যাদের জন্য যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়েও মুক্তি পেলেন ইসলাম সেই স্ত্রী সন্তানদের দেখা মেলেনি মুক্তির সময়। তারা নারায়ণগঞ্জে থাকায় আসতে পারেননি বলে জানান ইসলামের বাবা আবদুল আজিজ মৃধা (৮৯)।

মুক্তির পর মো. ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বন্দি ছিলাম। মুক্তি পেয়ে খুবই খুশি। স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সঙ্গে বাকী দিনগুলো কাটাতে চাই। আমার মত আরও অনেকেই বন্দি আছেন। যারা সংশোধন হতে চান। সরকার যেন তাদেরও সুযোগ দেয়। সেই দাবি করছি।

ইসলামের বাবা আবদুল আজিজ মৃধা বলেন, আদালতের নির্দেশে আমার ছেলেকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আমরা খুবই খুশি। আগামি দিনে সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। পিছনে ফিরে দেখতে চাই না।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি ঝিনাইদহের বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সাজা দেন ইসলামকে। স্ত্রী ও সন্তানকে স্বীকৃতি না দেয়ায় এ সাজা পেতে হয় তাকে। ২০১৫ সালের ১৭ মে তাকে ঝিনাইদহ কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

ইসলাম মূল সাজা খেটেছেন ১৪ বছর ৬ মাস ২৯দিন। তার অবশিষ্ট সাজা ১০ বছর ১১ মাস ১৪দিন। তবে সামাজিক স্বীকৃতি না পাওয়া সেই সন্তানের চেষ্টাতে সাজা পূরনের আগেই মুক্তি পেলেন ইসলাম।

সূত্র জানায়, ঝিনাইদহের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মেয়ে মালাকে প্রেম করে বিয়ে করেন একই গ্রামের আজিজ মৃধার ছেলে ইসলাম। ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় মৌলভীর মাধ্যমে বিয়ে করেন তারা। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারি মিলনের জন্ম হয়।

কিন্তু একসময় মালার সঙ্গে বিয়ে ও মিলনের পিতৃত্ব অস্বীকার করে বসেন ইসলাম। মালাকে মেনে না নেয়ায় মালার বাবা ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। এ মামলায় বিচারিক আদালত ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলাম আপিল করলে রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে সেখানেও ব্যর্থ হন ইসলাম। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেন ইসলাম।

সেই রিভিউ শুনানিতে আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির নেত্বত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চে মালা ও মিলনের স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে আনেন।

এর আগে মিলনের ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয় যে, তিনি মালা ও ইসলামেরই সন্তান।

আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল আপিল বিভাগকে বলেন, মালা ইসলামেরই স্ত্রী। ডিএনএ রিপোর্টে প্রমাণিত যে, মিলন তাদের সন্তান।

প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের নিষ্পত্তি ঘটে। আপিল বিভাগ ইসলামকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন।

এরপর ৩১ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মালা-ইসলামের মধ্যে পুনরায় বিয়ে হয়। সেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রি (কাবিনও) হয়। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন মালা-ইসলামের ১৮ বছর বয়সী ছেলে মিলন।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবু তালেব বলেন, আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপার, দুই পক্ষের আত্মীয় স্বজন ও তাদের ছেলে মিলনের উপস্থিতিতে ইসলাম ও মালার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের ১ আগস্ট বিয়ের কাবিন উচ্চ আদালতে জমা দেন। এরপর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতের কপি পাওয়ার পর আজ মুক্তি দেয়া হলো।

তিনি আরও বলেন, মহামান্য আদালতের নির্দেশে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. ইসলামকে মুক্তি দেয়া হলো। এটি বন্দি সংশোধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম আবু নওশাদ বলেন, জেল কোড অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে সিনিয়র জেল সুপারের কক্ষে বিবাহ সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে মো. ইসলাম ও মালার বিবাহ সম্পন্ন হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি আজ মুক্তি পেলেন। কারা পরিবারের সবাই খুশি।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঝিনাইদহে হিজড়াদের বিচার চাইলেন হিজড়ারা

লিঙ্গ কর্তনকারী হিজড়াদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন অপকর্মে প্রতিবাদ,

ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করার পর কিছুটা সুস্থবোধ করলে সাকিবকে বাড়িতে আনা হয়।

ঝিনাইদহে ছাত্রীকে গণধর্ষণ, আসামি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার

ঈদুল আজহার দিন সন্ধ্যায় নির্যাতিতা স্কুলছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে যায়। এ সময় বাদশা ও তার সহযোগীরা

মন্তব্য লিখুন...

Top