14/12/2018 , ঢাকা

ঝিনাইদহ-২: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ধানের শীষের প্রার্থী


প্রকাশিত: 14/12/2018 11:06:23| আপডেট:

নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ঝিনাইদহ-২ (হরিণাকুণ্ডু-সদরের একাংশ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিলের ওপর শুনানির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত আসে।

সকাল ১০টায় নির্বাচন ভবনের একাদশ তলায় নির্বাচন কমিশনের এই শুনানি শুরু হয়। ৫৪৩টি আপিল আবেদনের মধ্যে ১৬০টি আবেদনের নিষ্পত্তি করার কথা রয়েছে প্রথম দিন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী অস্থায়ী এজলাসে বিচারকের আসনে রয়েছেন।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থাকা ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাংগঠিনক সম্পাদক এমএ মজিদ পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এই উপজেলা চেয়ারম্যানের পদতাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন ঝিনাইদহের রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে এমএ মজিদ জানান, যথাসময়ে ও বিধি মোতাবেক পদত্যাগপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেছিলাম। তবে যাচাইবাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল করা হয়। আপিলে নির্বাচন কমিশন ন্যায়বিচার করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে।

এবার ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো. মসিউর রহমান, তার ছেলে ইব্রাহিম রহমান রুমি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম মশিউর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর রবিউল ইসলাম লাবলু, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি তাহজিব আলম সিদ্দিকী সমি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফখরুল ইসলাম, গণফ্রন্টের হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, স্বতন্ত্র ইউসুপ পারভেজ ও জাকের পার্টির মো. আবু তালেব সেলিমসহ ১২ জন মনোনয়ন জমা দেন।

যাচাই-বাছাইয়ে সাবেক এমপি মসিউর রহমান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জাকের পার্টির আবু তালেব সেলিম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ পারভেজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর রবিউল ইসলাম লাবলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করে জেলা রির্টানিং অফিসার।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৩টি, হরিণাকুন্ডু উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-২ (জাতীয় সংসদের ৮২) আসন। জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসন এটি। ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. মসিউর রহমান।

এ আসনটিতে বরাবরই বিএনপির রয়েছে বেশ শক্ত অবস্থান। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে সব সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে।

ঝিনাইদহ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন স্বতন্ত্র এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি। ২০১৭ সালের মে মাসে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরে আলম সিদ্দিকীর ছেলে তাহজীব আলম সিদ্দিকী।

১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত এ আসনটি ছিলো বিএনপির দখলে। সাবেক এমপি মসিউর রহমানকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম অপু প্রথমবারের মতো পরাজিত করেন। তবে সফিকুল ইসলাম অপুু গত সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমির কাছে পরাজিত হন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৬৪ ভোটের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মসিউর রহমান পান ৭৬ হাজার ১ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের মতিয়ার রহমান পান ৩৭ হাজার ১৬৬ ভোট। আর এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর আবুল কাশেম পান ৩৩ হাজার ৯৭৫ ভোট।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির মসিউর রহমান পান ৮৩ হাজার ৯৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নূরে আলম সিদ্দিকী পান ৬৯ হাজার ৩৫৩ ভোট, জায়ামাতের নুর মোহাম্মাদ পান ৪১ হাজার ২৪৭ ভোট।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মসিউর রহমান পান এক লাখ ৪৪ হাজার ৯৫১ ভোট। নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের নূরে আলম সিদ্দিকী পান এক লাখ ১৭ হাজার ৭০৬ ভোট ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সফিকুল ইসলাম অপু পান এক লাখ ৬১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির মসিউর রহমান পান এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৬ ভোট।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাহজীব আলম সিদ্দিকী পান ৬৭ হাজার ৯৮৪ ভোট। নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের সফিকুল ইসলাম অপু পান ৫১ হাজার ২৪৪ ভোট।

আরো পড়ুন: ঝিনাইদহের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ইব্রাহীম রহমান রুমী
ঝিনাইদহের মানুষের মুক্তির ইতিহাস
ঝিনাইদহ-২: যে কারণে মিন্টুর মনোনয়ন বাতিল


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

প্রেস থেকে ঝিনাইদহের বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

বিএনপি দলীয় প্রার্থীর হাজার হাজার পোস্টার-লিফলেট জোর করে তুলে মিনি ট্রাকসহ নিয়ে যায়।

ঝিনাইদহে এক নৌকা ভক্তের নৌকা তৈরির গল্প

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র কাঠের নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আবু সাইদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি পেশায় একজন কাঠের আসবাব

যশোরে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় হামলার অভিযোগ, আহত ১৯

আসন্ন নির্বাচনে যশোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রচারণা হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সাংবাদিকসহ ১৯ জন আহত

মন্তব্য লিখুন...

Top