20/07/2019 , ঢাকা

টানা ৩১ বছর ছুটি নেননি: সেই শিক্ষককে পুরস্কৃত করলেন মন্ত্রী


প্রকাশিত: 20/07/2019 04:59:52| আপডেট:

চাকরিজীবনে টানা ৩১ বছরের এক দিনও ছুটি নেননি। বিদ্যালয়ের সব নিয়ম কানুন মেনে চলেছেন কঠোরভাবে। এমন বিরল নজির স্থাপনকারী শিক্ষক সত্যজিত বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে সোমবার যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় মন্ত্রীর পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক স্বপন কুমার রায় ওই শিক্ষকের হাতে হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি তপন কুমার বসুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক জাতীয় সংদস্য ও ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা সদস্য এমএম আমিন উদ্দিন, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এমএম মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম নওশাদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীস কুমার বিশ্বাস, ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসংবর্ধনা ও চেক বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষক সত্যজিত বিশ্বাস ৩১ বছর চাকরি জীবনে একদিনও ছুটি নেননি, কোনোদিন এক মিনিট দেরি করেও স্কুলে আসেননি। এমনকি বাবার মরদেহ বাড়ি রেখে স্কুলে ক্লাসে এসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করিয়েছেন। বিয়ের দিনও ক্লাস নিয়েছেন। ছুটি নেননি অসুস্থতার মধ্যেও।

বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় বর্ষার দিনে হাঁটু কাদা মাড়িয়ে চরম কষ্ট-দুর্ভোগে স্কুলে আসতে হয়েছে তাকে। এখন রাস্তাটি পাকা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমেও বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত তিনি।

ধোপাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সত্যজিত বিশ্বাস স্কুলে কোনোদিন দেরি করে আসেননি। কর্মরত জীবনে কোনো দিন ছুটিও নেননি। তবে কয়েকবছর আগে একদিন স্কুলে এসে দেখলাম, শিক্ষার্থীরা সত্যজিত স্যারকে নিয়ে হৈ চৈ করছে। শিক্ষকের মাথায় পানি দিচ্ছে। এগিয়ে গিয়ে দেখি জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। আমি তাকে ছুটি নিতে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি ছুটি নেননি।

এছাড়াও সত্যজিত বিশ্বাসের বাবা মাধব চন্দ্রের মৃত্যুর দিনও স্কুল থেকে ছুটি নেননি। উপস্থিত অতিথিরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবা সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমার (সত্যজিত) হাতের উপরই মারা গিয়েছিলেন। সকাল ৮টা পর্যন্ত বাবার মরদেহের পাশে ছিলাম। অন্যদের সৎকারের আয়োজন করতে বলে স্কুলে গিয়েছিলাম। স্কুলে ১২টা পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে এসে সৎকারের শেষ অংশে অংশ নিয়েছিলাম।

শিক্ষক সত্যজিৎ বিশ্বাস বলেন, বিয়ের দিনও আমি ছুটি নেইনি। হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী আমাদের বিয়ে হয় সন্ধ্যায়। ক্লাস নিয়েই সেদিন বিয়ে করতে গিয়েছিলাম। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে পর দিনই স্কুলে যাই। ক্লাস শেষ করে শ্বশুর বাড়ি থেকে নববধূকে নিয়ে বরযাত্রীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছিলাম।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্বপন রায় বলেন, শিক্ষক সত্যজিত বিশ্বাসের কর্মজীবনে কোনোদিন ছুটি না নেওয়া এবং কর্তব্যপরায়ণের বিষয়ের সংবাদ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইফায়েস ওসমান মহোদয়ের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশনা মোতাবেক এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে সত্যতা জানতে পেরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে এক লাখ টাকার চেক স্কুল পরিচালনা কমিটির হাতে ও এক লাখ টাকার চেক শিক্ষক সত্যজিত বিশ্বাসের হাতে তুলে দেওয়া হয়।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন বিশ্বের জন্য অনুসরণীয়’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বিশ্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অনন্য। প্রতিবেশী এ দুটি দে

দীর্ঘদিনের গোপন ট্যাটু প্রকাশ্যে আনলেন সামান্থা

নতুন সিনেমা ‘ওহ বেবি’ ভালো ব্যবসা করছে। সেই সাফল্যে হাওয়ায় ভাসছেন ভারতের দক্ষিণী সুন্দরী সামান্থা আক্কিনেনি। এবার নিজের দীর্ঘদিনের

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেতাবি কথা: রুমিন ফারহানা

সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা কেতাবি কথা ছাড়া আর কিছুই নয়, বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মন্তব্য লিখুন...

Top