15/11/2018 , ঢাকা

ঢাকা অচলের কর্মসূচি চান ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা


প্রকাশিত:9:18 pm | November 9, 2018 | আপডেট:

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ঢাকা অচলের কর্মসূচি চান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় তিনজন বক্তা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এ আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, ‘আন্দোলন চাই, নির্দেশনা দেন। এক দফার কর্মসূচি চাই। আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না।’ এই সমাবেশের পর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সমাবেশ থেকে।

নেতারা বলেন, ‘আজকের জনসভা পণ্ড করার জন্য রাজশাহী অভিমুখে বাস, ট্রাক, ট্রেন সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিচার চাই, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে শেখ হাসিনা বাইরে থাকতে পারেন না। শেখ হাসিনাকেও জেলে যেতে হবে।’

জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘হুদার অধীনে নির্বাচনে গেলে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেলে, শেখ হাসিনা আজীবন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আর খালেদা জিয়া আমৃত্যু কারাগারে এবং তারেক জিয়া আজীবন নির্বাসনে থাকবেন। আমরা যদি সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করি, এ দেশের মানুষ আমাকে, আপনাকে ছাড়বে না। তাই বলছি, হুদাকে নামান, শেখ হাসিনাকে নামান। আমরা নির্বাচনে গেলে জয়ী হব যদি ভোট দিতে পারি।’

জনসভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের ভীত নড়ে গেছে। তারা পালাবার পথ খুঁজছে। সরকার যত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুক না কেন, ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করতে হবে। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জনগণের বিপক্ষে গিয়ে কেউ কখনো বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও পারবে না।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে নির্বাচন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে সুষ্ঠু নির্বাচনে যাব আমরা।’

সৈয়দ আশরাফি পাপিয়া বলেন, ‘প্রয়োজনে ঢাকা অচলের নির্দেশ দিন আপনারা। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশকে মুক্ত করব। এ জন্য আপনাদের নির্দেশনা চাই আমরা।’

তফসিল ও নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে এখনো বলব, তফসিল পিছিয়ে দেন। তফসিল বদলান। আমরা আন্দোলন করছিলাম, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে। আর আপনারা এমন একটা ফাঁদ পেতেছেন, যাতে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি। ওই ফাঁদ, ওই বেড়াজাল, ওই অত্যাচার ছিন্ন ভিন্ন করে আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

জনসভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করে দিয়েছে। আমরা যাতে নির্বাচনে না যেতে পারি, দেশের ৯০ ভাগ ভোটারকে বাদ দিয়ে ঐক্যফ্রন্টকে বাদ দিয়ে, সাত দফা না মেনে নির্বাচন বাংলাদেশে হতে পারে না।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তাদের সকলকে মুক্তি দিতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। তবেই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। তবেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। নির্বাচনের সমান মাঠ তৈরি করতে হবে। সকল দলকে সমান অধিকার দিতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে বের করে নিয়ে এসে তাঁকে কাজ করতে দিতে হবে। অন্যথায় কোনো নির্বাচনী তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমাদেরকে দাবি আদায় করতে হবে। জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি বলতে খালেদা জিয়া। তাই, খালেদা জিয়াকে আর বন্দি করে রাখা সম্ভব নয়।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন হবে কিনা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ আমরা করব কিনা। এটা এখনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। তবে একটা সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে হয়েছে, সেটা হলো বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহীর সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, উপদেষ্টা এসএম আকরাম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও মো. শাহজাহান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির রাজশাহী বিভঅগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

এর আগে শুক্রবার দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজকের জনসভায় যোগ দিতে পারেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। এরই মধ্যে জনসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন নগরীর সাহেববাজারে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছেন। নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবি আদায়ে নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহীতে এটি চতুর্থ সমাবেশ। এর আগে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় জনসভা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর সোমবার। মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ তারিখ ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। ২৩ ডিসেম্বর রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

** নির্ভরযোগ্য খবর জানতে ও পেতে স্টার মেইলের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Star Mail/Facebook


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

যে কারণে নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছে না ইসি?

কেন নির্বাচন কমিশন এই যুক্তি মানছে না? কেন তারা মনে করছেন, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই তাদের নির্বাচন করতে হবে?

‘হুমায়ূন আহমেদের বউ নমিনেশন পেপার নিতে আসছে!’

‘আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়ে এ কি করলেন শাওন! (দেখুন ভিডিও সহ)’

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ইসির বৈঠক বুধবার বিকেলে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আলোচনা করতে চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।