26/04/2019 , ঢাকা

ঢাবির মুহসীন হলের এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৭ ভুল


প্রকাশিত: 26/04/2019 19:45:50| আপডেট:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এবার একাধিক বানান, বাক্য, সাধু-চলিত মিশ্রণজনিত গুরুচণ্ডালীসহ ১৭টি ভুল পাওয়া গেছে। এর আগে এই হলের এক বিজ্ঞপ্তিতে বঙ্গবন্ধুর নামের বানান ভুল নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আসন্ন ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদের পরিচয়পত্র নবায়ন করার নির্দেশনাসহ হলে অবস্থানরত বহিরাগতদের সতর্ক করা হয়। কিন্তু ১৩ লাইনের বিজ্ঞপ্তিতে বানান ভুলসহ সাধু-চলিত ভাষার মিশ্রণও দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় সমাসবদ্ধ শব্দ আলাদা করে লেখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির ভুলগুলো হলো—প্রথম লাইনে ‘এতদ্বারা’ লিখতে গিয়ে ‘এতদ্ধারা’ লেখা হয়েছে। তৃতীয় লাইনে শুদ্ধবানান ‘লক্ষ্যে’ না ‍লিখে ‘লক্ষে’ লেখা হয়েছে। পঞ্চম লাইনে ‘গ্রহণ’ লেখার পরিবর্তে ‘গ্রহন’ লেখা হয়েছে।

১২তম লাইনে ‘অমান্যকারীদের’ একসঙ্গে না লিখে পৃথকভাবে লেখা হয়েছে। বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে এই শব্দটি একসঙ্গে লিখতে হয়।

বিজ্ঞপ্তির ১৩তম লাইনে ‘কেহ’ লেখা হয়েছে। পুরো বিজ্ঞপ্তিটি চলিত ভাষায় লেখার কারণে সাধু ভাষার ‘কেহ’ লেখার কারণে সাধু-চলিত মিশ্রণ দোষ তথা গুরুচণ্ডালী দোষ হয়েছে। শব্দটির চলিত শুদ্ধরূপ হলো ‘কেউ’। আর সর্বশেষ প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া’র নামের নিচে ‘প্রাধ্যক্ষ’ বানান ভুল করে ‘প্রাধক্ষ’ লেখা হয়েছে।

অন্য ভুলগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে’, যেখানে দ্বিরুক্তি হয়েছে। শুদ্ধ হবে, ‘জানানো যাচ্ছে যে’। এছাড়া লেখা হয়েছে ‘হল সমূহের’, যার শুদ্ধরূপ ‘হলগুলোর’।

আরও ভুলের মধ্যে রয়েছে, ‘অত্র’, যা হবে ‘এখানে’; ‘দেয়া’ যা হবে ‘দেওয়া’, ‘কোন’ না হয়ে হবে ‘কোনও/কোনো’। পাশাপাশি বাক্যগঠনের ক্ষেত্রেও ভুল রয়েছে। যেমন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয় এমন অছাত্র হলে’ লেখা হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের মার্চ মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বঙ্গবন্ধুর নামের বানান ভুল লেখা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বঙ্গবন্ধুর নামের বানান ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ না লিখে লেখা হয় ‘শেখ মজিবুর রহমান’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলে প্রাধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বারবার বাংলা ভাষার বানানে এমন ভুলের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা এটিকে একদিকে চরম উদাসীনতা, অন্যদিকে অদক্ষতা বলে উল্লেখ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল আওয়াল নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘হল প্রাধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এমন ভুল অনাকাঙ্ক্ষিত।’ বিজ্ঞপ্তির বানান না দেখে প্রাধ্যক্ষ কীভাবে স্বাক্ষর করলেন, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সোনিয়া নামের একজন ছাত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে স্বজনপ্রীতি, তদ্বির ও টাকার বিনিময়ে কর্মচারী/কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এটি তার একটি ফল। দক্ষ কর্মচারী/কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে এমন ভুল হতো না।’

বাংলা বানান ভুলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে প্রাধ্যক্ষ অফিস থেকে যাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এত ভুল মানে দুটো জিনিস বোঝায়। একটা হলো—বিজ্ঞপ্তি যাদের হাত দিয়ে গেছে তারা ব্যাপারগুলো জানেন না। আরেকটি দিক হলো—প্রমিত বাংলা ব্যবহার সাংস্কৃতিক দিক থেকে হারিয়ে গেছে। আমরা সামাজিকভাবে বাংলা ভাষার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবেও তৈরি হয়নি।’

বিজ্ঞপ্তির বানান ভুলের বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়াকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি গতকাল তার চোখে পড়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘একটু চাপায়ে রাখেন। সংশোধনীসহ একটি বিজ্ঞপ্তি যাচ্ছে।’


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই

এ ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

একমাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীর আত্মহনন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) ঢাবির আরও এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

পদে পদে চাঁদা নেন ছাত্রলীগের দুই নেত্রী

ফরিদা ও শ্রাবণী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে পদপ্রত্যাশী। এসব অভিযোগের বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে অবগত

মন্তব্য লিখুন...

Top