27/05/2019 , ঢাকা

দাকোপে বাদলা রোগে আক্রান্ত শতাধিক গরুর মৃত্যু


প্রকাশিত: 27/05/2019 19:10:05| আপডেট:

বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার দাকোপে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে গবাদি পশুর বাদলা রোগ। গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এরোগে আক্রান্ত প্রায় শতাধিকেরও বেশি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এই সুযোগকে পুজি করে আবার এলাকার গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তারা গরুর মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত এক মাসে প্রায় দুই শতাধিক গরু বাদলা (ব্লাক কোয়াটার) রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে শতাধিকেরও বেশি গরুর মৃত্যু হয়েছে। খরা ও বর্ষা মৌসুমে এই রোগটি বেশি হলেও এবার ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে এলাকার একাধিক কৃষক ও গরুর মালিকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে। অধিকাংশ গরুর মালিকরা এ রোগের প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক কোন ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে না পেরে আতংকে আছেন। এই সুযোগকে আবার পুজি করে এলাকার এক শ্রেণীর গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তাররা নকল ওষুধ ব্যবহার করে গরুর মালিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বড় অংকের অর্থ।

উপজেলার খেজুরিয়া এলাকার পরিমল রপ্তান, সুনিল বিশ্বাস, পলাশ রপ্তান, নিরঞ্জন বিশ্বাস ও জগদিশ বিশ্বাসসহ আরো অনেকের সাথে আলাপকালে তারা জানান তাদের প্রত্যেকের একাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সাথে সাথে অনেক গরু মারাও গেছে। কয়েকটি আবার চিকিৎসা দেয়ার পর ভালও হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রাণী সম্পদ অফিসের চিকিৎসকদের খবর দিয়েও এলাকায় না পেয়ে গ্রাম্য হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন। অনেকে আবার মোটা অংকের অর্থ খরচ করেও গরু বাঁচাতে পারেননি। তারা এই রোগের প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক কোন ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে না পেরে আতংকের মধ্যে আছেন বলে জানান।

পশ্চিম বাজুয়া এলাকার ভেটোরিনারী ডা. প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বাদলা রোগ সাধারনত ৩ ধরনের অতি তীব্র তীব্র ও নিম্ন তীব্র হয়ে থাকে এবং খরা ও বর্ষা মৌসুমে বেশি হয়ে থাকে। এই রোগে ২ মাস থেকে ৬ বছর বয়সের গরু সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় এবং এতে গরুর জ্বর, পেট ফাপা, পা খোড়া, শ্বাস কষ্ট, মাংস পচা ইত্যাদি হয়ে থাকে। এই রোগে গরুর হার্ট কিডনি ফুসফুস লিভার অতি তীব্র ভাবে আক্রান্ত হলে ৬ ঘন্টার মধ্যে মারা যেতে পারে। এপর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত ১০টি গরুর চিকিৎসা দিয়েছেন এর মধ্যে ৩টি গরু মারা গেছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. পরিতোষ রায় বলেন, গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তারা ভয়ে ভীতি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন রোগে এলাকার গরুর মালিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এটা সত্য। এছাড়া আরো কিছু নতুন নতুন ডাক্তার গজিয়ে উঠেছে এদের তালিকা আমার কাছে নেই। তাছাড়া এরা তো চাকরী করে না বিধায় ডাকলে আসতে চায় না।

তিনি বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে আমার দুইজন করে লোক নিযোগ দেয়া রয়েছে তাদের কাছে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন এবং বাদলা রোগে আক্রান্তের বিষয় তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

দাকোপে তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসানে কৃষকরা দিশেহারা

পশ্চিম বাজুয়া এলাকার কৃষক তপন মন্ডল বলেন তিনি এবার লোন এবং ধার দেনা করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ২৫ বিঘা জমিতে তরমুজের বীজ রোপন করেন। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষনে সমস্ত তরমুজের বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

ঝিনাইদহে আত্মীয় হিসেবে বাসায় এসে শিশু অপহরণ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস জানান, থানায় জিডি হয়েছে। হয়তো ভয়ে পরিবারের লোকজন মামলা করেনি। তবুও তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করেছি।

পরকীয়ার ছবি ফেসবুকে, ছেলেকে নিয়ে খালে ঝাঁপ গৃহবধূর

প্রেমিকের সঙ্গে গৃহবধূর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর মুহূর্তেই সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর সংসারে কলহ শুরু

মন্তব্য লিখুন...

Top