20/08/2019 , ঢাকা

ধুনটে পুলিশকে ম্যানেজ করে রমজানেও জুয়ার আসর!


প্রকাশিত: 20/08/2019 11:25:39| আপডেট:

আমিনুল ইসলাম শ্রাবণ, ধুনট (বগুড়া) থেকে: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় রমজান মাসেও প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের দিদারপাড়ায় এ জুয়ার আসর চলছে প্রায় তিনমাস যাবত। জুয়া পরিচালনাকারীদের দাবী, পুলিশকে ম্যানেজ করেই চালানো হচ্ছে জুয়া খেলা। আর একারনেই জুয়ার আসর বন্ধ করতে পুলিশ কোন উদ্যোগ নেইনি বলে দাবী করেছেন এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের দিদারপাড়ায় প্রায় ৩ মাস যাবত চলছে জুয়া খেলা। ৭ সদস্যের একটি দল নিয়ন্ত্রণ করেন এই জুয়ার বোর্ড। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জুয়ার বোর্ডটি পরিচালনা করা হয়। ইতিপূর্বে ধুনটের রত্নীপাড়া গ্রামে বাঁশবাগানের নীচে তাবু টাঙ্গিয়ে জমজমাট জুয়ার আসর চলেছে। পুলিশকে ম্যানেজ করেই সেখানেও ওই জুয়ার আসর পরিচালনা করা হতো। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জুয়ার বোর্ডটি বন্ধ করা হয়। ওই জুয়ার বোর্ডটি স্থানান্তর করে বর্তমানে রাঙ্গামাটি দিদারপাড়া গ্রামে চালানো হচ্ছে। এই জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটি গ্রামের মানুষ ক্ষুব্ধ। কিন্তু জুয়া পরিচালনা কমিটিকে সহযোগীতা করছেন সরকারি দলের স্থানীয় একজন প্রভাবশালী নেতা। এ কারণ জুয়ার বিপক্ষে মুখ খুলতেও ভয় পান অনেকে। বিভিন্ন ভাবে গ্রামবাসী জুয়া বন্ধে থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু জুয়ার আসর বন্ধ করতে পুলিশ কোন উদ্যোগ নেয়নি।

এদিকে গত ১ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা ওই জুয়ার আসরে হানা দেন। ইউএনও’র উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াড়ীরা বোর্ড থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। কিন্তু ইউএনও ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর পুনরায় জুয়ার আসর শুরু হয়। পবিত্র রমজান মাসেও প্রকাশ্যে চলছে জুয়া খেলা। এলাকার মুসুল্লীরা এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা জুয়া বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

জুয়ার বোর্ড পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ৫/৭ জন মিলে জুয়ার বোর্ডটি চালানো হয়। এখনো সেভাবে জমতে শুরু করেনি। খেলোয়াড় কম আসছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবাইকে ম্যানেজ করেই জুয়ার বোর্ড চালানো হয়। এই ম্যানেজের দায়িত্বে থাকেন আজগর নামের বোর্ডের আরেক সদস্য। আজগর আলী বলেন, সবাইকে সম্মানি দিয়ে খেলা চালাতে হয়। পুলিশকেও মাসিক চুক্তিতে টাকা দিতে হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের টাকা প্রদানের দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় আ.লীগের এক প্রভাবশালী নেতা। তিনি ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিও। যার কারনে পুলিশকে দেওয়া টাকার পরিমান বলতে পারেনি আজগর আলী।

এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন স্টারমেইল টােয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাঙ্গামাটি দিদারপাড়ায় জুয়া খেলার বিষয়টি মৌখিক ভাবে জেনেছি। স্থানীয় একজন নেতার কিছু কর্মীরা নিজেরা খেলেন। এজন্য সেখানে সরাসরি যাওয়া হয়নি। তবে খেলা বন্ধ করতে ওই নেতাকে বলা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশকে ম্যানেজ করার বিষয়টি সত্য নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, গত ১ মে ওই পথে আসার সময় একদল মানুষকে জুয়া খেলতে দেখি। পরে সেখানে এগিয়ে গেলে জুয়াড়ীরা ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালায়। ওই জুয়া বন্ধ করতে পুলিশের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

চিকিৎসা করিয়ে আর ফেরা হলো না ঝিনাইদহের মইনুলের

গ্রামীণফোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোহাগ ঝিনাইদহ পৌর এলাকার

ধুনট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি শ্রাবণ সম্পাদক মেহেদী

বগুড়ার ধুনট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সংগঠনের এক বছর মেয়াদী নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৌভাতের আগের রাতে ‘অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকা’ হাজির, শ্রীঘরে প্রেমিক

শুক্রবার একটি অভিজাত হোটেলে বরের অনুপস্থিতিতে বৌভাত অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য লিখুন...

Top