18/02/2019 , ঢাকা

বাংলা ট্রিবিউনের ফটো সাংবাদিক লাঞ্ছিত, ক্যামেরা ছিনতাই চেষ্টা


প্রকাশিত: 18/02/2019 22:10:28| আপডেট:

নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় ফেলে কাজ করার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলোআপের ছবি তুলতে গিয়ে কলাবাগান এলাকায় হামলা ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এর ফটো সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন। এসময় তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে স্থানীয় দুই দুর্বৃত্ত। পরবর্তীতে অন্যান্য লোকজন চলে আসায় ক্যামেরা ফেরত দেওয়া হয়। রোববার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানের বশির উদ্দিন সড়কের লাল ফকিরের মাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কলাবাগান থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসার পর হামলাকারীরা সটকে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাল ফকিরের মাজার সংলগ্ন এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (প্রশাসন-৩, সংযুক্ত) এফএম তৌহিদুল আলম ও তার এক আত্মীয়ের দুটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণ সামগ্রী রাস্তায় ফেলে রেখে কাজ করায় ওই এলাকায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশ হয়। এরপর প্রশাসনের নির্দেশনায় গত শনিবার (১৯ জানুয়ারি) ওই সড়ক থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে ফেলেন নির্মাণাধীন ভবনটির মালিকরা। সড়কের চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় এ বিষয়ে ফলোআপ প্রতিবেদনের জন্য ছবি তুলতে গিয়েছিলেন ফটো সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন। তবে ছবি তোলার সময় দু’জন যুবক তেড়ে আসে এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে সাজ্জাদ চিৎকার করায় আশেপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসে। তাদের চাপে দুই যুবক ক্যামেরা ফিরিয়ে দেয় এবং ছবি তুললে সমস্যা আছে বলে হুমকি দিতে থাকে।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমি ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ করে দুজন যুবক আমার দিকে তেড়ে আসে। তারা হুমকি ধমকি দিয়ে আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। আমি চিৎকার করায় লোকজন জড়ো হয়ে যায়। তখন তারা ক্যামেরা ফেরত দিয়ে চলে যায়। তবে আমাকে ছবি তুলতে নিষেধ করে ও হুমকি দিতে থাকে ।’

ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই যুবকের নাম রিদম ও মুকুল। তারা উভয়েই রিদম ও মুকুল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (প্রশাসন-৩, সংযুক্ত) এফএম তৌহিদুল আলমের আত্মীয়।

প্রসঙ্গত, কলাবাগানের বশির উদ্দিন সড়কের লাল ফকিরের মাজার সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে সড়কের ওপরে মালামাল রেখে দুটি বাড়ির নির্মাণের কাজ করায় যান চলাচলে ভীষণ ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এতে সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার ড্রেন বন্ধ হয়ে কাদামাটির পাশাপাশি তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর কারণে সড়কে পথচারী চলাচল ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঢাকা ওয়াসা পাম্পিং মেশিন দিয়ে পানি অপসারণ করলেও বারবার একই পরিস্থিতি দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (প্রশাসন-৩, সংযুক্ত) এফএম তৌহিদুল আলম ও তার আত্মীয়কে নির্মাণ সামগ্রীগুলো সরিয়ে নিজেদের জায়গার ভেতরে নেওয়ার অনুরোধ করলে তারা ও তাদের পরিবার সদস্যরা দুর্ব্যবহার করেন। এরপর স্থানীয়দের অনুরোধে বাংলা ট্রিবিউনে এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রথমে সিটি করপোরেশন ও পরে পুলিশের অনুরোধে তারা মালামাল সরিয়ে নিলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সংক্রান্ত ছবি তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন বাংলা ট্রিবিউনের ফটো সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

মেডিকেলের ডাস্টবিনে ২২ নবজাতকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাস্টবিন ও ড্রেন থেকে ‘অপরিণত’ ২২ নবজাতকের মরদেহের বেশ কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় মেডিকেলের ডাস্টবিন ও পাশের ড্রেন থেকে এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করা হয়।

সমালোচনার প্রতিবাদ জানালেন শাজাহান খান

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গঠন করা কমিটির সভাপতি হওয়ায় যে সমালোচনা হচ্ছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন

‘বদিকে দিয়ে মাদক আর শাহজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব?’

‘আব্দুর রহমান বদিকে (কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য) দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আর শাহজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব?’

মন্তব্য লিখুন...

Top