22/08/2019 , ঢাকা

বাড়ির লোভে মাকে ধরিয়ে দিতে চান ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ!


প্রকাশিত: 22/08/2019 17:18:00| আপডেট:

পৈত্রিক বাড়ি দখলের জন্য নিজের মাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ‘হুমকি দিতেন’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এমনকি নিজের গানম্যান দিয়ে মাকে ভয়ও দেখিয়েছেন। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ তুলেছেন তার মা সামসুন নাহার তসলিম।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলাআরএফ) কার্যালয়ে তুরিন আফরোজের মা সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তুরিন আফরোজের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সামসুন নাহার তসলিম বলেন, ‘আজ দুইবছর তিন মাস উনিশ দিন আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার আঠার দিন পরে তুরিন আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। আমার দোষ তার (তুরিন আফরোজ) কিছু উচ্ছৃঙ্খল আচরণের প্রতিবাদ করা।’

মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তুরিন আফরোজের মা বলেন, ‘আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়িভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার, ওষুধ খরচ চলত। এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর তুরিন বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে তুলে নেয়। অপরিচিত লোকদের নিয়ে রাত-বিরাতে ঘরে ঢোকে। দারোয়ান-ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে তার সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া লাগত। এ সব বিষয়ে নিষেধ করলে ডিজিএফআই, র‌্যাব, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে আমাদের ভয় দেখাত। বলত ওরা সবাই তার বন্ধু। কোনোকিছু করলে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করার ভয় দেখাত।’

সামসুন নাহার তসলিম বলেন, ‘আমি তো আইনের ধারা বুঝি না। তুরিন আরও বলত, পৃথিবীর যেখানেই থাকো ধরে নিয়ে আসব। আর তার গানম্যান দিয়ে ভয় দেখাত। আমি গ্রামের বাড়ি নীলফামারী যেতে পারি না। সে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে গ্রামের বাড়ির জমিজমা ও বাড়ি কুক্ষিগত করেছে। প্রতিবাদ করলে বড় আপু (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ও ছোট আপুর (প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা) প্রসঙ্গ টানত।’

তুরিনের মা আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তিনি তো একজন মা। আমরা জানি, উনি অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেন না। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চাই। আমার শরীর ভীষণ খারাপ। কিডনির ৬৫ শতাংশ অকেজো। ডায়াবেটিকস আছে। ওষুধ কেনার পয়সা বাড়িভাড়া থেকে পেতাম সেটাও তুরিন আফরোজ কেড়ে নিয়েছে। দেশে থাকার জায়গা নেই এখানে.. সেখানে থেকে বেড়াই।’

সংবাদ সম্মেলনে তুরিনের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে আমার বোন আমাকে এবং মাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি হয়রানি করে আসছে। এর একটিই কারণ। তা হলো আমাদের সম্পদ কুক্ষিগত করা। চক্ষুলজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল রেখেছিলাম।’

এদিকে মা ও ছোট ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সারাবাংলাকে বলেন, ‘জমি নিয়ে মামলা আছে। তাই বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমার মা ও ভাই আমাকে নিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করেছে সে বিষয়েও কিছু বলার নেই।’

নিজের বাড়িতে ঢুকতে না পেরে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মা শামসুন নাহার তসলিম ও ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির।

এর আগেও ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে থানায় জিডি (জিডি নম্বর- ১১৮৮) করেছিলেন তার মা। এছাড়া গত ১ জানুয়ারি ঢাকার প্রথম যুগ্ম জজ আদালতে বাড়ি দখলের অভিযোগে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ২ মার্চ পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মা শামসুন নাহার এবং অন্য ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে বের করে দেন তুরিন আফরোজ। বাড়ির মালিক দাবি করে বাড়ি ও জমির দলিলপত্রও দখলে রেখেছেন ‍তুরিন আফরোজ।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

প্রয়াত বাবার কাছে খোলা চিঠি তুরিন আফরোজের

এবার মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মৃত বাবার কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সেতু।

বোরকা পরে সহকারীকে স্বামী বানিয়ে আসামির সঙ্গে দেখা করেন তুরিন আফরোজ

মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে তদন্ত হচ্ছে। আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন বৈঠক

ঝিনাইদহে হিজড়াদের বিচার চাইলেন হিজড়ারা

লিঙ্গ কর্তনকারী হিজড়াদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন অপকর্মে প্রতিবাদ,

মন্তব্য লিখুন...

Top