17/07/2019 , ঢাকা

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেতাবি কথা: রুমিন ফারহানা


প্রকাশিত: 17/07/2019 14:24:31| আপডেট:

সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা কেতাবি কথা ছাড়া আর কিছুই নয়, বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের কারণে নিম্ন আদালত কার্যত এখনো সরকারের অধীনে রয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশে ‘সেপারেশন অব পাওয়ার’ কেতাবি কথা ছাড়া আর কিছু নয়।

রুমিন ফারহানা আরো বলেন, রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। সোমবার সংসদে বাতিল নোটিশের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার উদ্ধৃতি দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি বলেছেন দেশে আইনের শাসন নেই। সরকার নিম্ন আদালতকে কবজা করার পর হাত বাড়িয়েছে উচ্চ আদালতের দিকে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কারণে তাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। সেই রায়ে তিনি বলেছিলেন, ডুবন্ত বিচার বিভাগ কোনো রকম নাক উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরো বলেছিলেন, আমিত্বের দম্ভের কথা। তারেক রহমানকে যে নিম্ন আদালত খালাস দিয়েছিলেন, তাকে পরে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। সংবিধানের ১১৫ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের কারণে নিম্ন আদালত এখনো কার্যত সরকারের অধীনে রয়ে গেছে। সেপারেশন অব পাওয়ার বাংলাদেশে এক কেতাবি কথা। অনেকটা সোনার পাথর বাটির মতো। রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ যদি স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে না পারে। তাহলে তা রাষ্ট্রের জন্য সমূহ বিপদ তৈরি করে।

এই নারী এমপি বলেন, এক-এগারোর সরকারের সময় মামলা হয়েছে দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি গঠন করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো তুলে নিয়েছে। পুরনো মামলার সঙ্গে বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যুক্ত হয়েছে নতুন একলাখ মামলা। নতুন করে গায়েবি মামলা বলে এক অদ্ভুত মামলা শুরু হয়েছে নির্বাচনের আগে আগে।

রুমিন ফারহানা বলেন, মৃত ব্যক্তি, পঙ্গু ব্যক্তি, বিদেশে থাকা ব্যক্তি, ঘটনা ঘটবার আগেই এ ধরণের অদ্ভুত সব মামলা করা হয়েছে গায়েবি মামলার অধীনে।

তিনি বলেন, মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে সরকার তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ মামলার মেরিট, তার বয়স, সামাজিক অবস্থান, জেন্ডার- যে কোনো বিবেচনায় বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জামিন তার অধিকার।

রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যাতে সহজে মুক্তি না পান, তাই একটির পর একটি মিথ্যা মামলা সামনে আনা হচ্ছে। বর্তমান শাসক গোষ্ঠী তাদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার পথে তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একমাত্র বাধা মনে করে। তাই মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক এবং উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত রাজনৈতিক মামলায় তাকে কারাগারে আটকে রেখে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন বিশ্বের জন্য অনুসরণীয়’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বিশ্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অনন্য। প্রতিবেশী এ দুটি দে

দীর্ঘদিনের গোপন ট্যাটু প্রকাশ্যে আনলেন সামান্থা

নতুন সিনেমা ‘ওহ বেবি’ ভালো ব্যবসা করছে। সেই সাফল্যে হাওয়ায় ভাসছেন ভারতের দক্ষিণী সুন্দরী সামান্থা আক্কিনেনি। এবার নিজের দীর্ঘদিনের

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ১৫ বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ব্যবস্থার মানের দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানে বাংলাদেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি।

মন্তব্য লিখুন...

Top