15/11/2018 , ঢাকা

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা


প্রকাশিত:2:06 am | October 19, 2018 | আপডেট:

নারীদের দুটি দাবি দ্রুত না মানলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নারী সাংবাদিকরা। দাবি দুটি হলো, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে তার অপরাধ স্বীকারপূর্বক নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে তিনি এরকম ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বিরত থাকবেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে নারী সাংবাদিককে ‘চরিত্রহীন’ বলার প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

নারীদের পক্ষে বিবৃতি তুলে ধরে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের একটি আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতির নির্বাহী সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি ও বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত। উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যুক্ত করার পর মাসুদা ভাট্টি তাকে একটি প্রশ্ন করতে চান এবং জানতে চান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আপনাকে শিবিরের একটি জনসভায় অংশ নিতে দেখা গেছে। সে কারণে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন আপনি কি জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে উপস্থিত থাকছেন কিনা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রশ্নটি শেষ করার আগেই ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং বলেন, আপনার সাহসের প্রশংসা করতে হয়। তবে, আমি আপনাকে একজন চরিত্রহীন বলতে চাই। কোনও রকম উসকানি ছাড়াই তিনি মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলেন। এরপরই সাংবাদিক সমাজের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সাংবাদিকরা কি জিনিস, সেটা তিনি জানেন। মাসুদা ভাট্টি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে তাকে প্রশ্ন করেন এবং এরকম ন্যক্কারজনক মন্তব্যের পরও তিনি এই ব্যক্তিকে কোনও কটূক্তি করেননি।

নাসিমুন আরা আরো বলেন, এর মানে এই নয় যে, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের এই বক্তব্যকে বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেওয়া যায়। কারণ, আমরা মনে করি মাসুদা ভাট্টি একজন নারী বলেই সরাসরি তাকে চরিত্রহীন বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। কারণ, নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি অনেক বাহবা পাবেন এবং এটাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি মাসুদা ভাট্টিকে আক্রমণ করতে গিয়ে সব নারীকে অপমান করেছেন এবং এজন্য তার যথাযথ শাস্তি আমরা দাবি করছি।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে মাসুদা ভাট্টির কাছে ক্ষমা চাইলেও সেই ক্ষমা যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করে নাসিমুন আরা নারীদের পক্ষ থেকে দু’টি দাবি তুলে ধরেন। এই দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে না মানলে আইনের আশ্রয়ের নেওয়ার হুঁশিয়ারি জানান তিনি। দাবিগুলো হলো—ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে তার অপরাধ স্বীকারপূর্বক নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতেও এমন ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বিরত থাকবেন।

প্রতিবাদ সভায় এক খোলাচিঠিতে মাসুদা ভাট্টি বলেন, আমার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়েই বুঝেছি যে, যুক্তিহীন মানুষই সাধারণত ব্যক্তিগত আক্রমণ করে। একজন নারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি সবসময়ে তার চরিত্রকে নির্দেশ করে আক্রমণ করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আপনিও তার ব্যতিক্রম নন। একাত্তর টকশোর উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা আপনাকে বলেছেন, আপনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। এটা তিনি মেনে নেবেন না। কিন্তু আপনি অত্যন্ত রূঢ় হয়ে পুরো অনুষ্ঠানে কথা বললেন। বরাবরের মতোই সেটা ছিল আক্রমণাত্মক।

তিনি আরো বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় যখন আপনি আমাকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ক্ষমা চাইলেন, তখন আপনাকে আমি বলেছি, যে অন্যায় কাজটি আপনি করেছেন একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন টকশোতে, তার সাক্ষী অনুষ্ঠানটির লাখ লাখ দর্শক। তাদের অগোচরে আপনি একটি ফোন করে ক্ষমা চাইলে আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে ক্ষমা করলেও যে অগণিত নারীকে আপনি অপমান করেছেন তাদের ক্ষোভ কোনোভাবেই তাতে প্রশমিত হয় না। যেহেতু বিষয়টি ঘটেছে জনসমক্ষে সেহেতু আপনাকে আপনার বক্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক অপরাধ স্বীকার করে সব পক্ষের কাছে প্রকাশ্যে মার্জনা চাওয়াটা কাম্য। আশা করি আপনি আমার ও আমার মতো অসংখ্য নারীর সম্মানহানির ক্ষতের জায়গাটি উপলব্ধি করবেন এবং প্রকাশ্যে সবার কাছে ক্ষমা চাইবেন।

লেখিকা আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, চরিত্রহীনতার অভিজ্ঞতা না থাকলে এ ধরনের কথা বলছেন কীভাবে? বেশি নড়াচড়া করলে থলের বেড়াল বেড়িয়ে যাবে।

ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, এটা ক্লিয়ারলি একটা নির্যাতন, মাসুদা ভাট্টি কী অপরাধ করেছিলেন যে তাকে এভাবে নির্যাতন করতে হবে?

তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে যারা এ রকম কথা বলে, তাদের আমরা নেতা মানব কি না সেটা এখন সিদ্ধান্তের বিষয়। আর মাসুদা ভাট্টির সঙ্গে যা হয়েছে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা একটা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য। চরিত্রের সংজ্ঞা লাথি মেরে ভেঙে দিতে চাই।

এটিএন নিউজের মুন্নী সাহা বলেন, মইনুল হোসেন এবং আপনারা যারা নানান সময়ে রাজনৈতিকভাবে কলঙ্কিত, রাজনৈতিক ভাবে চরিত্রহীন, আপনারা একটু সাবধানে থাকবেন। আজকের এই প্রতিবাদ সকল রাজনৈতিক কলঙ্কিত চরিত্রহীনদের প্রতি আমাদের সকলের প্রতিবাদ। আমরা রাজনৈতিক চরিত্রটা ঠিক করতে চাই।

জিটিভির সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে শুধু নারীকে অপমান করেননি, পুরো মানবসমাজকে অপমান করেছেন। আমাদের টিভিতে তাকে আর কোনো সময় টকশো কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে সুযোগ দেব না, আপনারাও আর তাকে সুযোগ দেবেন না।

প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাছিমা আক্তার সোমা, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান আরা শিল্পী। সাংবাদিকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন মুন্নী সাহা, মিথিলা ফারজানা, নাসিমা খান মন্টি, শাহনাজ মুন্নী, ফারজানা রূপা, আঙ্গুর নাহার মন্টি, ফারহানা মিলি, নাদিরা কিরণ, মুনমুন শারমিন শামস প্রমুখ।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন গ্রেপ্তার

ঢাকার উত্তরায় আ স ম রবের বাড়ি থেকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে

‘ব্যারিস্টার মঈনুল ইংরেজি খাওয়াটা শিখেছেন, ভদ্রতাটা শিখেননি’

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল পড়তে গিয়ে ইংরেজদের খাবার খাওয়া শিখলেও ইংরেজদের ভদ্রতা শিখতে পারেননি বলে মন্ত

‘আপনারা মামলা করুন, আমরা যা করার করবো’

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন অশালীন মন্তব্য করার প্রতিবাদে দেশের নারী সাংবাদিকরা কী ভূমিকা পালন করছেন,