23/03/2019 , ঢাকা

মিরপুরে ছাত্রদের ওপর পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলা


প্রকাশিত: 23/03/2019 10:49:12| আপডেট:

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) বিকালে মিরপুর-১৩ নম্বর বিআরটিএ’র কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে এই হামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা অংশ নেয় বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন।

বিকাল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ স্মৃতি কলেজ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, মিরপুর গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে মিরপুর ১৪ থেকে ১০ নম্বরের দিকে আসছিল। মিছিলটি কাফরুল থানার সামনে পৌঁছালে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় ভাসানটেক ও মিরপুর এলাকার লেগুনা স্ট্যান্ডের বিভিন্ন পরিবহনের শ্রমিকরাও পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। তখন শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষ চলাকালে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বহিরাগতদের ছবি তুলতে গেলে এক নারী ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে লাঠি ও রড হাতে ছাত্রলীগ, যুবলীগের স্থানীয় কর্মীরা অংশ নেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বিকাল ৪টার দিকে মিরপুর-১০ এর গোলচত্বর থেকে ১৩ ও ১৪ নম্বরের মধ্যে বিআরটিএ থেকে কাফরুল থানা হয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের গেইট পর্যন্ত সড়কে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে একপর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মিরপুর কলেজের ছাত্র আন্দোলনকারী সাহিল আহমেদ জানান, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম। কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মী হামলা করেছে। আমরা কোনো থানা বা বিআরটিএ ঘেরাও করতে যাইনি। পুলিশ এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আদনান ভূঁইয়া জানান, বিআরটিএ’র সামনে পুলিশের একটি গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করতে গেলে ছাত্রদের ওপর ক্ষিপ্ত হন এক পুলিশ সদস্য। এ সময় এক ছাত্রকে মারধর করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পরে সংঘর্ষ ঘটে। তখন মিরপুর-১০ এর গোলচত্বরে যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা আলাদা সারি তৈরি করেছিলো ছাত্ররা। রিকশা ও বাসের জন্য আলাদ লেন। গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করছিলো তারা। সেইসঙ্গে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলো তারা। এ সময় এক ছাত্রকে মারধর করা হয়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তারা স্লোগান দিতে দিতে বিআরটিএ’র দিকে এগিয়ে যায়। বিআরটিএ’র সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ওই সময়ে পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে পুলিশের সঙ্গে লাঠি-রড হাতে অর্ধশত যুবক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই ছাত্র আহত হয়। শিক্ষার্থীদের একাংশ ওভার ব্রিজে আশ্রয় নিলে সেখানেও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হামলাকারী ছাত্রলীগ যুবলীগের কর্মীরা আশপাশের স্থাপনায় ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফাঁকা গুলিও ছোড়ে।

আসাদুজ্জামান রিপন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, হামলায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরাও জড়িত। ৫টার দিকে সংঘর্ষ থেমে গেলেও শিক্ষার্থীরা তখনও বিআরটিএ’র সামনে অবস্থান নিয়েছিলো। ঘটনাস্থলে এ সময় ইটের টুকরো ও আগুন জ্বালানোর আলামত দেখা গেছে।

মিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়াহেদুজ্জামান খান বলেন, বিকেল ৫টার দিকে একদল শিক্ষার্থী আক্রমণ করতে থানার ভেতরে প্রবেশ করলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। দু’একটি টিয়ারশেল ছোড়া হয়েছে। এক পুলিশ সদস্যের গাড়ি তারা আটক করেছিল ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায়। পুলিশের লাইসেন্স হেডকোয়ার্টারে জমা থাকে জানালে শিক্ষার্থীরা বলে- গাড়ি থানায় নিয়ে যান। আমি আনতে গিয়েছিলাম, তারা জঘন্য ভাষায় গালাগালি করেছে। গাড়ি থানায় আনার পর তারা ঢিল ছুড়তে শুরু করে এবং থানায় ঢুকে যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রহুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো কারণ ছাড়াই কাফরুল থানায় হামলার চেষ্টা করেছিলো। তারা পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান ফটকের ভেতরে ঢুকে যায়। তারা নাশকতার চেষ্টা করছিলো। তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। বাধ্য হয়েই পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়েছে। কোনো রাবার বুলেট বা ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

সে সময় পুলিশের সঙ্গে লাঠি হতে কারা ছিল- সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। এ বিষয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কারও বক্তব্যও স্টার মেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে গত রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টানা আন্দোলন করছে।

আরো পড়ুন: মিরপুরে হামলাকারী যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পরিচয় মিলেছে


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ

সোমবার ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব চলাকালে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এসময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের মারধর করে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের দুপক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র জবি

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে আজ সোমবার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পাঁচ সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে।

জনতার হাতে পুলিশের এসআই ধরা

ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল কদ্দুছসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

মন্তব্য লিখুন...

Top