13/11/2018 , ঢাকা

যে কারণে প্রধান শিক্ষিকা গোপনে জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন চেয়েছিলেন?


প্রকাশিত:12:50 am | November 7, 2018 | আপডেট:

বহুল আলোচিত ঝিনাইদহের শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দ্দারের বিরুদ্ধে এবার গোপনে প্রশ্ন সংগ্রহ চেষ্টার অভিযোগ উঠলো। চলতি জেএসসি পরীক্ষায় গত বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) জেএসসি বাংলা পরীক্ষা চলাকালে নিজ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিধি ভেঙে প্রশ্ন সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কেনো দায়িত্বেই ছিলেন না। এ ঘটনায় সহকারী কেন্দ্র সচিব বিপ্রবগদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী কেন্দ্র সচিব মো. মনিরুজ্জামান জানান, শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দ্দারের মেয়ে তাসনিমুল জান্নাত নিজ স্কুল কেন্দ্রে জেএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শুরু হলে প্রধান শিক্ষক দিলারা ইয়াসমিন তার নিজ অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে আসেন। এরপর পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষিকা পিয়ন মারফত একটি প্রশ্ন চেয়ে পাঠান। কিন্ত কেন্দ্র সচিব প্রশ্ন দিতে অসম্মতি জানান। এরপর ঘটনাটি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ইউএনও লিখিত আকারে অভিযোগ দিতে বলেন। এ ঘটনায় কেন্ত্র সচিব লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

এদিকে শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন জোয়ার্দ্দার অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা সত্য নয়।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি জানান, বৃহস্পতিবার জেএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশ্ন সংগ্রহ অভিযোগের তদন্ত চলছে।

এদিকে স্কুলের বিভিন্ন খাতের ১০ লাখ টাকা তছরুপের অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অফিস থেকেও এই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। সেই তদন্তে পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের ফান্ড তছরুপের ২৪টি খাত উল্লেখ করা হয়। মাত্র এক বছর চাকরিতে যোগদান করে দিলারা স্কুলের বিভিন্ন খাতের ১০ লাখ টাকা তছরুপ করেন। সভাপতির সাক্ষর ছাড়াই জাল ভাউচার তৈরি করেন। স্কুল থেকে অতিরিক্ত বেতনের টাকা নেন।

কমিটির অনুমোদন ছাড়া অর্থ ব্যয় আবার কখনো সাধারণ তহবিল ব্যতিত বিদ্যালয়ের নামে কৌশলে নতুন একাউন্ট করে একক চেকে টাকা লেনদেন করছেন। কখনো বা বিল-ভাউচার জালিয়াতি, ফরম পুরন ও রেজিস্ট্রেশনের অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নীতিমালার বাইরে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকার হ্যান্ডক্যাশ উত্তোলন, নির্ধারিত নোটবই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন। ৫০ শতাংশ হারে বেতন উত্তোলন, ছাত্রী ভর্তি, ফরম পুরন, জরিমানাসহ বিভিন্ন খাতের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফেল করা ছাত্রীদের কাছ থেকে সাবজেক্ট প্রতি ২০০ টাকা আদায় করে পকেটস্থ করেছেন। পরিপত্র মোতাবেক ১০০% সরকারী বেতন পাওয়ার পরও স্কুল থেকে প্রতি মাসে ১৪ হাজার ৫০০ টাকার বেতন নিচ্ছেন অবৈধ ভাবে। প্রতিদিন তিনি স্কুল কামাই করা ছাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা হারে জরিমানা আদায় করতেন।

এছাড়া সম্প্রতি প্রধান শিক্ষিকার নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষকরা একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় কয়েকটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছে। সবমিলিয়ে ঐতিহ‌্যবাহী শৈলকুপা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের চেইন অব কমাণ্ড ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

প্রধান শিক্ষিকার এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নেয়া।

** নির্ভরযোগ্য খবর জানতে ও পেতে স্টার মেইলের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Star Mail/Facebook


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে শিক্ষিকা মনিকার প্রেমকাহিনী

অপহরণ নয় নিজের ইচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের নিখোঁজ সঙ্গীত শিক্ষিকা মনিকা বড়ুয়া রাধা। শুধু তাই নয়, সেখানে গিয়ে বিয়ে করে নাম বদলে বসবাস শুরু করেছিলেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে উদ্ধারের পর মনিকা পুলিশকে নিজেই এই তথ্য দিয়েছেন। উদ্ধারের পর মনিকা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, ভারতে পালানোর আগে সংসারে বিভিন্ন টানাপড়েনে হতাশ হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন […]

আদালতে জবানবন্দি মনিকার, জামিন পেলেন কমলেশ

জবানবন্দিতে মনিকা বলেন- ফেসবুকে বন্ধুত্বের পর আমার সঙ্গে কমলেশের প্রেম হয়। গত ১২ এপ্রিল আমি তার সঙ্গে চলে যাই। আমরা পুরীতে গিয়ে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে