13/11/2018 , ঢাকা

সাত কলেজে গণহারে ফেল কেন?


প্রকাশিত:3:31 pm | November 5, 2018 | আপডেট:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থীদের গণহারে ফেল করানোর অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সাত কলেজের ইংরেজি ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাতে প্লেকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

সোমবার সাত কলেজের ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মানবন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, তাদের পরীক্ষার উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এতে এই সেশনের শিক্ষার্থীরা গণহারে ফেল করেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের অধিকাংশ বিভাগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীরা ফেল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা প্রথমে তাদের স্ব স্ব বিভাগে অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি। পরে ঢাবি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ ও উত্তরপত্র পুনরায় সঠিকভাবে মূল্যায়নের কথা বলেছে। তবে পরীক্ষা কমিটির কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এখন শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রায় দেড় বছর পর তাদের এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে কবে আবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়েও তারা কিছু জানে না। এ কারণে মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারছে না। এমনকি সরকারি কোনো চাকরিতেও আবেদন করতে পারছে না। শিক্ষক নিবন্ধন ও বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

কিভাবে শিক্ষার্থীরা বুঝলেন তাদের উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়নি জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়ে ফার্স্টক্লাস পেয়েছিল তারাও ফেল করেছে। তাদের তো অন্তত থার্ড ক্লাস পাওয়া উচিত ছিল। তাই অন্য শিক্ষকদের দিয়ে উত্তরপত্র আবারো মূল্যায়ন করা হোক।

তিতুমীর কলেজের ২০১২-১৩ সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সোহান বলেন, ঠিকমতো ক্লাস হয় না, সঠিকভাবে পাঠদানও হয়না, তারপরও যদি ঢাবি শিক্ষার্থীদের মতো আমাদের মূল্যায়ন করা হয় তাহলে সেটা ভুল হবে। বিগত বছরগুলোতে জাতীয় বিশ্বিবদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে উত্তরপত্র মূল্যায়ন হতো। এখন ঢাবির পদ্ধতি অনুসরণ করে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হচ্ছে দেখে গণহারে ফেল করছে।

একই কলেজের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের আনিচুর রহমান বলেন, আমাদের বিভাগের ২২৫ জন শিক্ষার্থীর। যার মধ্যে সেঞ্চুরি নোবেল বিষয়ে ১৯০ জন এবং মর্ডান ড্রামা বিষয়ে ৭১ জন ফেল করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে জানান, বদরুন্নেছা কলেজের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। ফেল করা উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়ন করাতে ৮১২ টাকা করে দিতে হয়। কিন্তু সেগুলো ঠিকভাবে পুনঃমূল্যায়ন হয় না।

ঢাকা কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রমজান আলী জানান, তাদের বিভাগের ১১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৮ জন পাস করেছেন।

সমাজদর্শন, ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা ও রাষ্ট্রদর্শন বিষয়গুলোতে অকৃতকার্যের হার বেশি। উদ্দশ্যমূলকভাবে শিক্ষার্থীদের ফেল করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান স্টারমেইল টােয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যখন পরীক্ষা দিলাম তখন আমরা ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছি। এখন সিলেবাস পরিবর্তন হয়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতিরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু যারা ফার্স্ট ক্লাস তারা তো থার্ড ক্লাস পাবে। কিন্তু এখানে তো ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করছে। তাই আমাদের ধারণা উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্রের যথাযথ পুনঃমূল্যায়ন, পুনঃবিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ ও ১০ দিনের মধ্যে ফলাফল বিপর্যয়ের সমাধান দেওয়ার দাবি জানান।

** নির্ভরযোগ্য খবর জানতে ও পেতে স্টার মেইলের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Star Mail/Facebook


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ইয়াবা সেবন: ২ ছাত্রলীগ নেতা আটক

কক্ষটি ব্যবহার করে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের চালান হয় বলে আমরা জানতে পারি। পরবর্তীতে হলের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের তথ্যের ভিত্তিতে কক্ষটিতে অভিযান

মুখে কালি মেখে প্রতিবাদ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

মুখে কালো রং মেখে শ্রমিক ধর্মঘটের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা

রোকেয়া হলে ছাত্রীদের মুখস্ত করানো হচ্ছে ছাত্রলীগের স্লোগান

ভিডিওটিতে দেখা যায় যে, ছাত্রলীগের রাজনীতি করে হলে আসন পাওয়া আবাসিক ছাত্রীদের স্ক্রিপ্ট ধরে শ্লোগানের ছন্দময় লাইনগুলো আত্মস্থ করানো হচ্ছে।