13/11/2018 , ঢাকা

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নীতিমালা অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর


প্রকাশিত:8:56 pm | September 25, 2018 | আপডেট:

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমমর্যাদা দিয়ে নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার নীতিমালাটি অনুমোদন হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে এসেছে। আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুমোদন নিতে আজ-কালের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর সরকারি আদেশ (জিও) জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি করার বিধান রয়েছে। তবে নীতিমালা জারি হলেও সহসাই শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির সুবিধা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া নীতিমালার দুটি ধারা সংশোধনের দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের পক্ষে গতকাল মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন দিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী গত ২০ সেপ্টেম্বর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতাদি/অনুদানসংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮’র অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর নীতিমালার সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সহকারী সচিব (মাদ্রাসা-২) মো. আবদুল খালেক আজকালের খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতাদি/অনুদানসংক্রান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে দুই-একদিনের মধ্যে পাঠানো হবে। এরপর জিও জারি করা হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সমান অর্থাৎ জাতীয় বেতন স্কেলের ১১ গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকরা ১৬ গ্রেডে বেতন ভাতা পাবেন। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে তিন হাজার ৪৩৩টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা পাঁচ লক্ষাধিক। শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী, শিক্ষার অন্যান্য ধারার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইবতেদায়ি পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ, আইসিটির মতো বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়গুলো পড়ানো হয়।

জানা গেছে, এমপিওভুক্ত সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা নির্ধারিত হারে বেতন ভাতাদি পেয়ে আসছেন। এসব মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকরা মাসে ১০ হাজার ৩৮৮ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা মাসে ৯ হাজার ৯৮৮ টাকা হারে বেতন ভাতা পাচ্ছেন। অপরদিকে একই পাঠ্যপুস্তক পড়ানো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ১৫ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র চার হাজার ৫২৯ জন সরকারি অনুদান পাচ্ছেন। ২০১৭ সালে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের মাসে আড়াই হাজার এবং জুনিয়র শিক্ষক ও কারিদের জন্য দুই হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নীতিমালা অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তবে দুটি ধারার বিষয়ে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের নেতারা। সংগঠনটির মহাসচিব ও নীতিমালা প্রস্তুত কমিটির সদস্য মো. শামছুল আলম নীতিমালার দুটি ধারা সংশোধনের দাবিতে আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মো. শামছুল আলম বলেন, ‘নীতিমালা তৈরি করতে আমরা ২০১৫ সাল থেকে কাজ করেছি। কমিটির সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়। কিন্তু আমাদের না জানিয়ে দুটি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। আমরা ধারা দুটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগধারীদের কেউ শিক্ষক হতে পারবেন না। শিক্ষাজীবনে একটি তৃতীয় বিভাগ রাখার মতামত ছিল আমাদের। কিন্তু মন্ত্রণালয় আমাদের না জানিয়ে নতুন ধারাটি যুক্ত করছে। এটি বাস্তবায়ন হলে বর্তমানে কর্মরত কয়েক হাজার শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া প্রতিটি মাদ্রাসায় একজন অফিস সহকারীর পদের প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।’

নীতিমালায় ১৯টি দফা রয়েছে। দফাগুলোর উল্লেখযোগ্য হলো- মহানগর, পৌর ও শহর এলাকার মাদ্রাসায় কমপক্ষে ২০০ এবং মফস্বল এলাকা ১৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। প্রতিটি মাদ্রাসায় একজন প্রধান শিক্ষক, চারজন সহকারী শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক থাকবেন। প্রধান শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে ফাজিল (ডিগ্রি পাস) আর সহকারী শিক্ষকদের এইচএসসি পাস। চারজন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে একজন কারি নিয়োগ দিতে হবে। তার শিক্ষকতা যোগ্যতা হবে আলিম পাস। অফিস সহায়কের এসএসসি পাস হতে হবে। শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অনুমোদিত সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তক পাঠদান করতে হবে। সহশিক্ষা হিসেবে কেরাত, হামদ, নাত প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, বৃক্ষরোপণ, কাব দল (স্কাউটিং), পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম করতে হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপজেলা ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটির সভাপতি হবেন ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) আর মেট্রোপলিটন এলাকায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সদস্য সচিব হবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। কমিটির অপর সদস্যরা হবেন-উপজেলা বা থানা সদরের এমপিওভুক্ত একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের একজন প্রতিনিধি।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রওনক মাহমুদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন কর হয়। কমিটিকে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে মাদ্রাসা স্থাপন, মঞ্জুরি, কমিটি গঠন, শিক্ষক নিয়োগ, পরিচালনা ও এমপিওভুক্তিকরণসহ মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, আধুনিকায়ন ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে একটি নীতিমালা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করে নীতিমালার খসড়া চ‚ড়ান্ত করা হয়।

জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে ১৫ অক্টোবর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা মঞ্জুরির জন্য নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এরপর বিভিন্ন সময় আদেশ জারির মাধ্যমে নীতিমালার কিছু ধারা হালনাগাদ করা হয়। কিন্তু স্বয়ংসম্পূর্ণ নীতিমালা না থাকায় শিক্ষকদের শূন্যপদ পূরণ, নতুন প্রতিষ্ঠানের অনুদানপ্রাপ্তি এবং নতুন পাঠ্যসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। প্রসঙ্গত, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সরকারিকরণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন নীতিমালাটি করা হয়েছে।


  
এ সম্পর্কিত আরও খবর...

তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো সরাসরি তরুণদের সাথে দেশ ভাবনা নিয়ে কথা বলবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠানে আলোচনা হবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, তরুণদের

সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে শিক্ষিকা মনিকার প্রেমকাহিনী

অপহরণ নয় নিজের ইচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের নিখোঁজ সঙ্গীত শিক্ষিকা মনিকা বড়ুয়া রাধা। শুধু তাই নয়, সেখানে গিয়ে বিয়ে করে নাম বদলে বসবাস শুরু করেছিলেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে উদ্ধারের পর মনিকা পুলিশকে নিজেই এই তথ্য দিয়েছেন। উদ্ধারের পর মনিকা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, ভারতে পালানোর আগে সংসারে বিভিন্ন টানাপড়েনে হতাশ হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন […]

আদালতে জবানবন্দি মনিকার, জামিন পেলেন কমলেশ

জবানবন্দিতে মনিকা বলেন- ফেসবুকে বন্ধুত্বের পর আমার সঙ্গে কমলেশের প্রেম হয়। গত ১২ এপ্রিল আমি তার সঙ্গে চলে যাই। আমরা পুরীতে গিয়ে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে