1. admin@starmail24.com : admin :
  2. editor@starmail24.com : editor@starmail24.com :
বহিষ্কৃত দুই কর্মকর্তাসহ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পেট্রোবাংলা - starmail24
শিরোনাম :
মাদক নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না ‘অল্প স্বল্প গল্প’ নিয়ে ফিরলেন আরজে রিজন মালয়েশিয়ায় এপ্রিলের শেষ সাপ্তাহ থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বিদেশি কর্মী প্রবেশ করতে পারে ! ইফতার আয়োজনে ‘সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য’ মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের ৮ বছরের অন্তঃদ্বন্ধের সমাধান গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারীদের অসন্তোষ, নোবেল বিজয়ী ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নিরাবতা দেশ গড়ার বাস্তবায়নে জনগণের পাশে থেকে কাজ করুন, প্রশাসন ক্যাডারদের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের আইনসভা ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন মুখ দেখানোতে আপত্তি, ছবির বদলে বায়োমেট্রিকের নিয়ম দাবি জীবন বীমার সাবেক এমডি জহুরুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা




বহিষ্কৃত দুই কর্মকর্তাসহ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পেট্রোবাংলা

স্টার মেইল, ঢাকা
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১
খন্দকার আব্দুস সালেক ও সানোয়ার হোসেন চৌধুরী

পেট্রোবাংলার অধিনস্ত কোম্পানিগুলো থেকে অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চাকুরিচ্যুত কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে গভির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।  যার নেতৃত্ব দিচ্ছে পেট্রোবাংলা, জিটিসিএল ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বহিষ্কৃত কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা। এদের কেউ দেশের ভেতরে আবার কেউ বাইরে থেকেই কলকাঠি নেরে জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে বিপদে ফেলার পায়তারা চালাচ্ছে। সম্প্রতি চক্রটিকে চিহ্নিত করার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বর্তমান সরকারের নানামুখি উদ্যোগের কারণে টানা এক যুগ ধরে অনেকটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে জ্বালানি খাতে। তাই এই খাতকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গভির ষড়যন্ত্র চলছে শুরু থেকেই। যার সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ছাড়াও আন্তর্জাতিক ঠিকাদার ও জ্বালানিখাতের মাফিয়াদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আর এই কাজে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তাদেরও বেছে নিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। সম্প্রতি পেট্রোবাংলার একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী জিটিসিএলের বহিস্কৃত ও সাবেক এমডি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী খন্দকার আব্দুস সালেক আর কর্ণফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর বহিষ্কৃত এমডি সানোয়ার হোসেন চৌধুরী এই ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে তথ্য পেয়েছে পেট্রোবাংলা। দুইজনই জ্বালানী খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় এই খাতের নাড়ি-নক্ষত্রও তাদের জানা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রয়েছে তাদের সক্ষতা। আর তাই দ্রুত ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে না পারলে জ্বালানি খাতে বিপর্যয় নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কে এই খন্দকার আব্দুস সালেক

গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জিটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন খন্দকার আবদুস সালেক। ২০০৩ সালে চাকুরি থেকে অবসর নেন তিনি। তৎকালীন বিএনপি সরকারের আশীর্বাদে একই প্রতিষ্ঠানে পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান অবসরের দিন রাতেই। এরপর থেকেই বেপোরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পেট্রোবাংলার অধিনস্ত জালালাবাদের ১৩ ও ১৪ নম্বর ব্লক এলাকায় অর্থৎ জালালাবাদ থেকে কৈলাশটিলা পর্যন্ত পাইপলাইন এবং মিটারিং ফ্যাসিলিটিজ নির্মাণের জন্য সিঙ্গাপুর ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সওয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্মাক্ষর হয়। এই ম্যাক্সওয়েলের বাংলাদেশি  পার্টনার ছিলো অক্সিডেন্টাল অব বাংলাদেশ লিমিটেড নামের আরেকটি কোম্পানি। ওই কাজটি দেখ-ভালের দায়িত্ব ছিলো খন্দকার আব্দুস সালেকের ওপর। একপর্যায়ে অক্সিডেন্টাল ও ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে ইনভয়েস পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতায় মামলা হয় সিঙ্গাপুরের একটি আদালতে। পেট্রোবাংলার পক্ষে মামলা মোকাবিলা ও আদালতে স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্য আব্দুস সালেককে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। কিন্তু চাকুরি বিধি লঙ্ঘন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের টাকায় স্বপরিবারে প্রমোদ ভ্রমণ করেন তিনি। সিঙ্গাপুরের গার্ডেন হোটেলের ২০১ নম্বর রুমে টানা ১০ দিন অবস্থান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, অক্সিডেন্টাল অব বাংলাদেশ বনাম ম্যাক্সওয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের মামলায় পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে অক্সিডেন্টালকে সাপোর্ট করার নির্দেশনা ছিলো আব্দুস সালেকের ওপর। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে আব্দুস সালেক ম্যাক্সওয়েলের পক্ষ নেন। ফলে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের জ্বালানি খাত। বিষয়টি নিয়ে একাধিক তদন্ত হয় তখন। একপর্যায়ে ২০০৫ সালে তাকে চাকুরিচুত করতে বাধ্য হয় তৎকালীন সরকার। এই সুযোগটিই এখন কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন তিনি। বিএনপি আমলের চাকুরিচ্যুতির বিষয়টি সামনে এনে সরকারের সহানুভুতি আদায়ের চেষ্টা করছেন আব্দুস সালেক। কিন্তু বিএনপি আমলেই চাকরি থেকে অবসরের পর রাতারাতি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি বেমালুম চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। চাকুরিচ্যুতির পর গ্রেপ্তার এড়াতে স্বপরিবারে অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে যান আব্দুস সালেক। সেখান থেকেই বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ওপর অদৃশ্য প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন তিনি। তার অনুসারী বেশ কয়েকজন অফিসার পেট্রোবাংলার অধিনস্ত বিভিন্ন কোম্পানীর শীর্ষ পর্যায়ে কর্মরত আছেন। তাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতির টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বড় বড় কাজগুলোর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

কে এই সানোয়ার হোসেন চৌধুরী

২০১০ সালে বাখরাবাদকে ভেঙে গঠন করা হয় কর্ণফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাকালীন এমডি ছিলেন সানোয়ার হোসেন চৌধুরী। কিন্তু শুরু থেকেই অনিয়ম দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন কর্ণফুলীকে। ৩৭৭ জন কর্মকর্তা আর ৪২৭ জন কর্মচারীর অর্গানোগ্রামের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এই কোম্পানিটিতে শুরুতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া ছাড়ায় নতুন করে ৫৭ জনকে নিয়োগ দেন সানোয়ার হোসেন চৌধুরী।

নিয়োগ তালিকায় দেখা যায়, জেলা কোটার জায়গায় মেধা, মেধার স্থানে মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত পদে প্রার্থী না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে চুড়ান্ত করা হয় নিয়োগপত্র। যাদের অধিকাংশই সানোয়ার হোসেনের নিজ বাড়ি পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। পড়ে দ্বিতীয় দফায় ২০ জনকে নিয়োগ দেয়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৩৮ জনকে নিয়োগ দেন তিনি। এই ঘটনায় সানোয়ারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলাও করে দুদক। এছাড়া শিল্পখাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে মোটা অংকের ঘুষ ও চাঁদাবাজির প্রচলন করে সে। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধে জড়ান সানোয়ার হোসেন। এতসব অভিযোগের পর জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংশোদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও করা হয় আলাদা তদন্ত। তদন্তে দেড় শতাধিক শিল্প সংযোগে অনিয়ম, মিটার টেম্পারিংসহ অন্তত ৩৫ টি অভিযোগের প্রমাণ পেলে তাকে বরখাস্ত করা হয় ২০১২ সালে।

এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা এখন একাট্টা হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে জ্বালানি খাতের বিরুদ্ধে। সালেক সুফি অস্ট্রেলিয়া থাকলেও সানোয়ার আছেন বাংলাদেশে। এদের সঙ্গে যুক্ত আছেন, পেট্রোবাংলা, তিতাস, কর্ণফূলী, বাখরাবাদ, জালালাবাদ, জিটিসিএল ও সুন্দরবনের একাধিক কর্মকর্তা। যাদের মূল কাজ, কুইক রেন্টাল প্রকল্প বন্ধ করাসহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করা। কুইক রেন্টাল প্রকল্পের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও ব্যবহার করছেন তারা। পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা একটি সূত্র।




আরো পড়ুন