নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন করেন, “কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন হলে মানসিক হাসপাতালে যাবে অথবা যাবে রিহ্যাব সেন্টারে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন?”
আজহারী লেখেন, “পবিত্র কোরআন অবমাননার এই ঘটনা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদিসের উদাহরণ দেওয়ার কারণে এক শিক্ষকের বহিষ্কার দেখেছে গোটা দেশ। এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষের অংশ।”
দেশের এই ক্রান্তিকালে কেউ সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগাতে চাচ্ছে কি না— তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, “এটা দেশকে অশান্ত করার একটি নীল নকশার অংশও হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত পবিত্র কোরআন অবমাননাকারী এই নরাধমকে অনতিবিলম্বে বহিষ্কার করা।”
একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ইসলামি বক্তা। এ ঘটনার প্রতিবাদ কর্মসূচির পাশাপাশি আগামী এক মাস নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াত কর্মসূচি, কোরআন স্টাডি সার্কেল, কোরআনের অনুবাদ ও তাফসির বিতরণ কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে বলে মত দেন আজহারী।
তিনি লেখেন, “আমাদের প্রতিবাদ কেবল ঘৃণায় নয়, দায়িত্বশীলতায় হোক। ইসলাম বিদ্বেষের প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা ইসলামের সুমহান আদর্শকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেব ইনশাআল্লাহ।”
আজহারী পোস্টের শেষে সূরা আস-সফ এর আয়াত উদ্ধৃত করেন— “তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর জ্যোতিকে নিভিয়ে দিতে চায়। অথচ আল্লাহর ফয়সালা হলো, তিনি তাঁর জ্যোতিকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন, অবিশ্বাসীদের কাছে তা যতই অসহনীয় হোক না কেন।” [সূরা আস-সফ: ৮]
