1. mahir1309@gmail.com : admin :
  2. subeditor@starmail24.com : subeditor@starmail24.com :
আওয়ামীপন্থী সিবিএ নেতার কবজায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ - starmail24
শিরোনাম :
আওয়ামীপন্থী সিবিএ নেতার কবজায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জমকালো আয়োজনে ‘নীল চোখ’ চলচ্চিত্রের মহরত প্রবাসে ক্রিকেট ও বাঙালিয়ানার উৎসব, ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোমুখি আট দল সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আসিফ নজরুলের শত কোটি টাকার দুর্নীতির নেপথ্যে রমজান-মাইকেল চক্র সিন্ডিকেট ভেঙে ৫০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করেও সমালোচনায় সাভার সাব রেজিস্ট্রার পরিশ্রম ও সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান ঢাবির আন্তঃবিভাগ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট মালয়েশিয়ায় কোকোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তে ও দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্জকে প্রত্যাহারের দাবি স্মারকলিপি প্রদান গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ উপেক্ষা করলে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা থাকবে না মালয়েশিয়ায় কালিয়াচাপড়া প্রবাসীদের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত




আওয়ামীপন্থী সিবিএ নেতার কবজায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

স্টার মেইল, ঢাকা
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
মো. মোস্তফা কামাল শাহীন
মো. মোস্তফা কামাল শাহীন

স্বল্প আয়ের মানুষের মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতে কাজ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নয়, নিজেদের আখের গোছাতেই যেন ব্যস্ত। তাদের এ ধরনের অপকর্মে বেহাত হচ্ছে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি। দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২২ এপ্রিল জাগৃকের অফিস সহকারী মো. মোস্তফা কামাল শাহীনকে সাময়িক বরখাস্ত করে জাগৃক। গত রোববার তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার পরও চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রভাবশালী এই সরকারি কর্মচারী।
অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে জাগৃকে। এই সিন্ডিকেটে জড়িতদের বিরুদ্ধে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা যৎসামান্য; অনেকটাই লোকদেখানো। সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, ঘুষ লেনদেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগের প্রমাণ থাকলেও সিন্ডিকেটের সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন জাগৃকের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত লাখ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২২ সালের ৮ মার্চ জাগৃকের অফিস সহকারী মো. মোস্তফা কামাল শাহীন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মোশারফ হোসেইন মৃধা। তদন্ত শেষে দুদক মামলার চার্জশিট দিলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কর্মজীবনে প্রভাব পড়েনি শাহীনের। নিয়মিত অফিস করেছেন তিনি। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। সেই মামলায় তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন।
জাগৃক সূত্রে জানা গেছে, শাহীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় শুধু নম্বর (০১/২০২৫) বসানো হয়েছে। রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কমিটি, শুনানি, স্বাক্ষী ও সুপারিশের কিছুই হয়নি। অথচ দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি বরখাস্ত হন। প্লট জালিয়াতি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জাল স্বাক্ষরসহ বহু অপকর্মে হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন। তবে ক্ষমতার দাপটে বারবার তিনি ধরাছোয়ার বাইরে থেকেছেন। শাহীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কমিটি করলেও সেই তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একের পর এক দুর্নীতি আর জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন অফিস সহকারী শাহীন। চাকরি জীবনের শুরুতে জাগৃকের মিরপুর অফিসে মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন শাহীন। ২০০৭ সালে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের ভূমি শাখায় হিসাব সহকারী পদে যোগদান করেন তিনি। পরে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া জালিয়াতি করে ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখায় অফিস সহকারী হয়েছেন। ছাত্রজীবনে শাহীন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। দেড়যুগ ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দলটির অনুসারী পরিচয়ে ডুবে ছিলেন অনিয়ম-দুর্নীতিতে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। সংস্থার আওয়ামী লীগপন্থী কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করে ভূমি শাখার নিয়ন্ত্রণ নেন। গড়ে তোলেন বিশাল সিন্ডিকেট। এখনও ভূমি শাখার কার্যক্রম চলছে তার নিয়ন্ত্রণাধীন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। সরকারি প্লট পাইয়ে দেয়ার নামে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে শাহীন হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত ২০ কোটি টাকা।

ঘুষ, দুর্নীতি, ফাইল গায়েব করা, ফাইল আটকে রেখে হয়রানি, ডিজিটাল নম্বরবিহীন জাল কাগজ তৈরি করে লীজ দলিল রেজিষ্ট্রিকরণ ও নথি অফিসে জালিয়াতির ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে শাহীনের বিরুদ্ধে। এসব জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে গৃহায়নের অসংখ্য প্লট হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। আত্মীয়-স্বজনের নামে কিনেছেন শত কোটির টাকা সম্পদ। শুধু রাজধানী ঢাকা শহরে এই কর্মচারী ও তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানার অন্তত ২০টি ফ্ল্যাট-প্লট রয়েছে।
জানা গেছে, শাহীনের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা হলেও কাফরুল এলাকায় ৭০ হাজার টাকা ভাড়ায় আলিশান ফ্ল্যাটে থাকেন। চলেন টয়োটা প্রিমিও প্রাইভেটকারে। কুমিল্লার বরুড়ায় এগারগ্রামে দুই কোটি টাকা খরচ করে পুকুরসহ বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি করেছেন শাহীন। নিজ গ্রামে নামে-বেনামে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৯ একর জমি কিনেছেন। শ্বশুরবাড়িতেও কিনেছেন অন্তত ২০ কোটি টাকার জমি। মিরপুরে বিদেশি কাপড়ের বিশাল শো-রুম রয়েছে শাহীনের। তার ব্যবসায়িক পার্টনার নাজমুল হোসেন বাবু শোরুমটি পরিচালনা করেন।
জাগৃক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কুষ্টিয়া হাউজিং এস্টেটের ডি ব্লকে ২০ নম্বর সড়কের ১/১ প্লটটি নিজের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন শাহীন। কক্সবাজার কলাতলী হাউজিং এস্টেটের চার নম্বর ভবনের এ/৪ নম্বর ফ্ল্যাটটিও বরাদ্দ নিয়েছেন নিজের নামে। মিরপুর ৮ নম্বর সেকশনের ক ব্লকের ৮ নম্বর রোডের ১১নং প্লটটি আপন খালাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের নামে কিনেছিলেন শাহীন, যা ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন। একই ব্লকের ১৬ নং রোডের ৭ নম্বর প্লটটি ভায়রা নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নামে কিনেছেন। ৯নং প্লটটি আপন ছোট ভাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরিফ হোসেনের নামে কিনে বিক্রি করে দিয়েছেন। সেকশন-৮, ব্লক-খ, রোড-১ এর ০৯নং প্লট তার বন্ধু মোহাম্মদ আলী’র নামে আম-মোক্তার দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন।
সেকশন-৮, ব্লক-খ, রোড-১ এর ১১নং প্লট তার দুই সহযোগী আবুল কালাম ও শাহজাহানের স্ত্রীর নামে আম-মোক্তার দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছিলেন, যা ইতিমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া, তিনি রূপনগর (১ম পর্ব) রোড-২৫, প্লট নং-১১ ও ৩১; রোড নং-২৯, প্লট নং: ০৪ ও রোড নং-৪০, প্লট নং-১২ বিকল্প বরাদ্দ নিয়ে নিজ ও আত্মীয়স্বজনের নামে আম-মোক্তার দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করে পরে প্লটগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। শাহীন ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে নথি তৈরি করে মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সেকশনে প্লটের লীজ দলিল করেছেন এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
শাহীনের সিন্ডিকেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন- আহসান হাবিব, সেলিম শাহনেওয়াজ, রেকর্ড কিপার কামরুজ্জামান, হিসাব সহকারী নাহিদ আরমান, রিয়াজুল ইসলাম, মাজেদুল ইসলাম ও রেজাউল ইসলাম, অফিস সহকারী শওকত হোসেন, মোসাব্বিবাল আসবাব ইকবাল ও আব্দুর রাজ্জাক, ডেসপাস রাইডার সোহেল হোসেন, রেকর্ড কিপার নাফিজা খানম ও ইউসুফ হোসেন, বিভাগীয় হিসাবরক্ষক জাকির হোসেন, অফিস সহায়ক আইয়ুব আলী খন্দকার, হিসাবরক্ষক শোয়েব উল আহসান, ক্যাশিয়ার মমিনুল ইসলাম এবং ডিভিশন-১ মিরপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের ট্রেসার মোহাম্মদ আসাদ।
সরকারি কর্মচারি হলেও শাহীন ব্যবসায়ী হিসেবে পাসপোর্ট করেছেন। তিনি পরিবার পরিজনসহ থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংঙ্কা ও দুবাই কয়েকবার করে ভ্রমণ করেছেন। প্রতি বছরই সরকারি অনুমোদন ছাড়া তিনি বিদেশ ভ্রমণে যান।
অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরিজীবী। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা ডাহা মিথ্যা। আমার ছোট ভাই আমেরিকা থাকে। মিরপুরে যে আমার সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে, তা গৃহায়ন রক্ষিত নথি যাচাই-বাছাই করলে পাওয়া যাবে। আমার কোনো অবৈধ সম্পত্তি নেই। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম জানিয়েছেন, অফিস সহকারী মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ রহিত করা হয়েছে। অফিস সহকারী মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় গত বছর ২২ এপ্রিল তার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে আদেশ প্রদান করা হয়। ১৬ আগস্ট এক আদেশে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ রহিত করা হয়েছে।




আরো পড়ুন